ঊনকোটি জেলা ভিত্তিক মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক, ২৭ আগস্ট, ২০২৬: আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের ১১৮ তম জন্মজয়ন্তী গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় পেঁচারথল ব্লকের সোনারাম পাড়া কমিউনিটি হলে পালন করা হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে ঊনকোটি জেলা ভিত্তিক জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পেঁচারথল বিএসি’র চেয়ারম্যান সজল চাকমা। উদ্বোধকের ভাষণে তিনি বলেন, বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ছিলেন একজন জনহিতৈষী মহারাজা। তিনি সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

তিনি শুধু জনজাতিদের জন্যই নয়, বরং সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের পূজার্চণার বিষয়ে উদার ছিলেন। আগরতলায় বেনুবন বিহার বৌদ্ধ মন্দির তিনিই নির্মাণ করেছিলেন। শুধু মন্দির-ই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিঙ্গারবিলে বিমানবন্দর তৈরী, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তৈরী করা সবই ছিল তাঁর চিন্তা ভাবনার ফসল। এ জন্য তাঁকে আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার বলা হয়। জনকল্যাণে তাঁর কাজকে স্মরণে রেখে বর্তমান রাজ্য সরকার তাঁর জন্মদিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগরতলা বিমানবন্দরকে তাঁর নামে নামাঙ্কিত করে সেখানে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুমারঘাট বি এ সি’র চেয়ারম্যান তপনজয় রিয়াং বলেন, বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ভারত ভাস্কর উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধর্মনগরের গোল্ডেন ভ্যালি স্কুলের শিক্ষক বুদ্ধিমান চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঊনকোটি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের সহ অধিকর্তা অজয় দে।

সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবী রূপাভানু চাকমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা সাংস্কৃতিক উপদেষ্ঠা কমিটির সদস্য সঞ্জিত চাকমা, কুমারঘাট মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের বরিষ্ঠ তথ্য আধিকারিক শুভাশীষ সেনগুপ্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুণ কান্তি চাকমা, সমাজসেবী সুভাষ দেওয়ান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা পরিবেশিত হয় হজাগিরি ও বিজু নৃত্য।

Leave a Comment