রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক, ১৬ আগস্ট, ২০২৬:  কাঞ্চনপুর মহকুমায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
রাজ্যের অন্যান্য অংশের ন্যায় কাঞ্চনপুর মহকুমায়ও গতকাল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। কাঞ্চনপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক ফিলিপ কুমার রিয়াং। তিনি স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে এমডিসি শৈলেন্দ্র নাথ, মহকুমা শাসক আশিস বিশ্বাস এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। সকালে প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

দশদা ও লালজুরি ব্লকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল দশদা এবং লালজুরি ব্লকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দশদা ব্লক কার্যালয় প্রাঙ্গণে সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দশদা বিএসি’র চেয়ারম্যান উদারাম রিয়াং। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্লকের বিডিও অম্পায়া ডার্লং এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ। লালজুরি ব্লক কার্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন লালজুরি বিএসি’র চেয়ারম্যান অজন্ত চৌধুরী। অনুষ্ঠানে লালজুরির বিডিও ময়ুখ দত্ত মজুমদার এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

লংতরাইভ্যালি মহকুমায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল লংতরাইভ্যালি মহকুমায় ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানটি হয়েছে ছৈলেংটা মার্কেট গ্রাউন্ডে। সেখানে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা। তিনি সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা আন্দোলনে যেসমস্ত বীর শহীদ আত্মবলিদান দিয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে কয়েকটি স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সদস্যদের সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে লংতরাইভ্যালি মহকুমার মহকুমা শাসক সুব্রত দাস, লংতরাইভ্যালি মহকুমার এসডিপিও সোনাচরণ জমাতিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

করবুকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
সারা রাজ্যের সাথে গতকাল করবুক মহাকুমাভত্তিক ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হয় করবুক পাঞ্জিহাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় এর মাঠে। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিধায়ক সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা ভাষণে বলেন আজ আমরা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশের সকল বীর সন্তানদের স্মরণ করছি। যাদের আত্মত্যাগ ও বলিদান এর ফলে দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে।

স্বাধীনতা দিবস শুধু আনন্দ উৎসবের দিন নয়, এই দিনটি আমাদের অধিকার ও দায়িত্ব কর্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমডিসি সুজয় উচই, করবুক ব্লকের বিএসসি ভাইস চেয়ারম্যান প্রণব ত্রিপুরা, মহকুমা শাসক প্রদীপ দেববর্মা, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গমনজয় রিয়াং, করবুক ব্লকের বিডিও শুভ্রজিৎ পাল, মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক ধনমনি ত্রিপুরা, বিদ্যালয় পরিদর্শক দামোদর ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক বৃন্দ, সমাজসেবী প্রণব শংকর ত্রিপুরা, সুশীল রিয়াং প্রমূখ বিশিষ্ট অতিথি বৃন্দ। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে করবুক পাঞ্জিহাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সেরা স্বনির্ভর দল সেরা কনস্টেবল, সেরা এসপিও, সেরা অঙ্গনওয়াড়ি ও সেরা আশা কর্মী ইত্যাদি সরকারি কর্মীদের শংসাপত্র ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নৃত্য দল ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দলকে এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

কমলপুরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় কমলপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কমলপুর মহকুমা ভিত্তিক ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। মহকুমা ভিত্তিক মূল অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পর আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি রূপায়ণের মাধ্যমে দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। অনুষ্ঠানে কমলপুর মহকুমার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ও সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীরা সমবেত দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, নৃত্য ও লোকনৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমলপুর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন প্রশান্ত সিনহা, কমলপুর মহকুমার মহকুমা শাসক গিদিয়ন মলসম, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌরভ সেন সহ বিশিষ্ট জনেরা। মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহকুমা হাসপাতালের রোগীদের ও কমলপুর উপ সংশোধনাগারে আবাসিকদের ফল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সূচনা হয়।

শান্তিরবাজারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
যথাযথ মর্যাদায় শান্তিরবাজার মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে গতকাল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয় শান্তিরবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজের মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং। পুলিশ এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ৮টি প্লেটুনের কাছ থেকে বিধায়ক অভিবাদন গ্রহণ করেন। দেশের মহান শহীদদের স্মৃতিচারণ করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মহকুমাবাসীর উদ্দেশ্য ভাষণ দেন বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীগণ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দল প্রধানদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিধায়ক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন স্বপ্না বৈদ্য, ভাইস চেয়ারপার্সন সত্যব্রত সাহা, বকাফা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান কৃষ্ণা রিয়াং, শান্তিরবাজার মহকুমার মহকুমা শাসক তরুণ কান্তি সরকার প্রমুখ। শান্তিরবাজার শহর পরিক্রমা করে স্থানীয় শিল্পীদের প্রভাতফেরি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে নানা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জম্পুইজলায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জম্পুইজলা মহকুমায়ও জম্পুইজলা মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে জম্পুইজলা মহকুমা ভিত্তিক ৮০-তম স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। মূল অনুষ্ঠান জম্পুইজলা মিনি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ কলই। অনুষ্ঠানে আরক্ষা দপ্তর ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১৪-টি প্ল্যাটুন পেরেড প্রদর্শনে অংশগ্রহন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জম্পুইজলা মহকুমার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা নাচ ও গান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মানব দেববর্মা, এমডিসি গীতা দেববর্মা প্রমূখ।

মোহনপুরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
রাজ্যের অন্যান্য মহকুমার সঙ্গে মোহনপুরেও গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। মোহনপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল বীর শহিদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন ভারতের নাগরিক হিসেবে গর্বের সঙ্গে বসবাস করছি। তিনি বলেন, স্বাধীনতা শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি নয়; স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা। ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন অনিতা দেবনাথ, ভাইস-চেয়ারপার্সন শংকর দেব, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রাকেশ দেব, মোহনপুর মহকুমার মহকুমা শাসক শান্তনু বিকাশ দাস, অতিরিক্ত মহকুমা শাসক ধৃতিশেখর রায়, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আশিস দাস গুপ্ত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও এনসিসি ক্যাডেটরা কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে দড়ি টানাটানি প্রতিযোগিতা ও ফুটবল প্রীতি ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মোহনপুরে স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পানিসাগরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
৮০ তম স্বাধীনতা দিবস গতকাল পানিসাগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়। পানিসাগর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিসাগর মহকুমা ভিত্তিক ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় পানিসাগরের বিবেকানন্দ মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গনে। সেখানে সকাল নটা দশ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন অনুরাধা দাস, পানিসাগর মহকুমার মহকুমা শাসক সুশান্ত দেববর্মা, পানিসাগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস, পানিসাগর নগর পঞ্চায়েতের ভাইস চেয়ারপার্সন ধনঞ্জয় দেবনাথ, পানিসাগর মহকুমা প্রশাসন ও মহকুমা পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকবৃন্দ, অন্যান্য বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, নগর পঞ্চায়েতের অন্যান্য কাউন্সিলর প্রমুখ।

স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস বলেন, অগণিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবলিদানের ফলে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিজেদের জীবন নির্দ্বিধায় বিসর্জন দিয়েছেন বলেই আজকে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। এদেশে বিভিন্ন জাতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করেন। আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি এটা আমাদের দেশের গর্ব। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংস্থার শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

সাক্রমে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
সাব্রুম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠে গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিধায়ক মাইলাফ্লু মগ। পতাকা উত্তোলনের পর তিনি জাতীয় পতাকার প্রতি অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক ভারতের স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে গর্বের বিষয়। স্বাধীনতার মূল্যবোধকে অক্ষুন্ন রেখে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। বিজয়ীদের হাতে বিধায়ক পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাক্রম মহকুমার মহকুমা শাসক সুমন রক্ষিত, সাক্রম নগর পঞ্চায়েত এর চেয়ারপার্সন রমা পোদ্দার দে ও অন্যান্য অতিথি বৃন্দ। এছাড়া সন্ধ্যায় সাক্রম পুরাতন টাউন হলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশালগড়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
গতকাল সারারাজ্যের সাথে যথাযথ মর্যাদায় বিশালগড় মহকুমায়ও ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় বিশালগড় মহকুমা শাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে। বিশালগড় মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন বিধায়ক সুশান্ত দেব। উদ্বোধকের ভাষনে তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়াও তিনি আগামীদিনে ভাবী প্রজন্মরা যাতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নেশামুক্ত, বাল্যবিবাহ মুক্ত এক সুস্থ সংস্কৃতির হাল ধরতে পারে সে উদ্দেশ্য আশাব্যক্ত করেন। তাছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পী ও মহকুমার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা দেশাত্মবোধক নৃত্য গান, নৃত্যনাট্য, বিহু নৃত্য, লেবাংবুমানি, মামিতা, নেশামুক্ত অভিযান বিষয়ক নাটক পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশালগড় পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন অঞ্জনপুরকায়স্থ, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়াও স্বাধীনতাদিবসের গৌরব ও মর্যাদা কে অক্ষুন্ন রাখতে বিশালগড় ইংরেজী মাধ্যম দ্বাদশশ্রেনী বিদ্যালয় থেকে বিশালগড় বাজার পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী