প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ আগস্ট,২০২৬: রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার চরম অবনতি ও একলাফে বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির অভিযোগে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষোভ তুঙ্গে। ঘন ঘন লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের দুই জোড়া চাপে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে জন দুর্ভোগের দ্রুত সমাধানের দাবিতে বুধবার উদয়পুর বিদ্যুৎ দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল গণধরণা কর্মসূচির আয়োজন করে সিপিআই (এম-এল)।
উক্ত গণধরণায় দলের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও বহু সাধারণ গ্রাহক অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হন। কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে తీవ్ర অসন্তোষ দেখা দিলেও প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।
ধরণা কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই (এম-এল)-এর রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার অভিযোগ করেন, “বিদ্যুৎ বিলের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি নিয়ে গ্রাহকদের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কোনো প্রকার স্বচ্ছতা ছাড়াই মাশুল বাড়িয়ে সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, একদিকে পকেটে টান, অন্যদিকে দফায় দফায় লোডশেডিং—এই দুইয়ের যাঁতাকলে সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। সরকারের এই চরম উদাসীনতার কারণেই জনক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে।
উদ্যোগী দলটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে অবিলম্বে বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজ্য সম্পাদক পার্থ কর্মকার বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকার যদি এই বর্ধিত মাশুল পুনর্মূল্যায়ন বা কমানোর বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যজুড়ে আরও বৃহত্তর ও তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল দশা এবং বর্ধিত মাশুল বাতিলের দাবিতে সিপিআই (এম-এল)-এর এই সোচ্চার অবস্থানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উদয়পুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার, সরকারের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।








