অনলাইন ডেস্ক, ১২ আগস্ট,২০২৬: বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পাস হয়ে গেল ‘খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিল, ২০২৬’। বুধবার কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস করা হয়। নতুন এই সংশোধনের ফলে খনিজ দ্রব্যের ওপর রাজ্য সরকারগুলোর বাড়তি ট্যাক্স বা সেস চাপানোর ক্ষমতায় বড় ধরনের রাশ টানল কেন্দ্র।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো রাজ্য সরকার আর নিজেদের মতো করে খনিজ অধিকার কিংবা খনিজ সমৃদ্ধ জমির ওপর বাড়তি কোনো কর বা শুল্ক বসাতে পারবে না। সূত্র : ডিডি নিউজ। এ বিষয়ে কেন্দ্র যে শর্ত ও বিধিনিষেধ নির্ধারণ করে দেবে, কেবল তা-ই মেনে চলতে হবে রাজ্যগুলোকে। এ ছাড়া, খনিজ সমৃদ্ধ জমির ওপর সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে এই বিলে।
বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে—আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে যেসব ট্যাক্স বা সেস রাজ্য সরকার আদায় করে নিয়েছে, তা ফেরত দিতে হবে না। তবে যেগুলো এখনও আদায় করা হয়নি বা বকেয়া রয়েছে, সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সংসদে বিলটি পেশ করার সময় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি জানান, দেশজুড়ে খনি খাতে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থিতিশীল কর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে দেশীয় অর্থনীতি গতি পাবে, যা ‘স্বনির্ভর ভারত’ ও ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে করের বৈষম্য থাকলে শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাঁচামালের পরিবহন খরচ বাড়ে। অনিয়ন্ত্রিত করের কারণে দেশে পর্যাপ্ত খনিজ থাকা সত্ত্বেও আমদানি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সর্বোপরি, আহরণ পর্যায়ে অতিরিক্ত কর চাপানো হলে শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।








