অনলাইন ডেস্ক, ৩ অগাস্ট, ২০২৬: প্রায় তিন দশক ধরে পুংজননেন্দ্ৰিয়ের জটিল স্নায়ু সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য গবেষকদের কাছে জানা থাকলেও, নারীর যৌন তৃপ্তির মূল অঙ্গ সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল অত্যন্ত সীমিত। অবশেষে সেই অজানা পথ উন্মোচন করলেন একদল বিজ্ঞানী। তারা ক্লিটোরিসের (ভগঅঙ্কুর) একটি যুগান্তকারী ত্রিমাত্রিক (3D) স্নায়ু মানচিত্র তৈরি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার পেলভিক বা শ্রোনীদেশের অস্ত্রোপচারের সময় নারীদের যৌন অনুভূতি অক্ষুণ্ন রাখতে সার্জনদের দারুণভাবে সাহায্য করবে।
মানবদেহের সবচেয়ে কম গবেষণাকৃত অঙ্গগুলোর মধ্যে ক্লিটোরিস অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা ট্যাবুর কারণে নারীর শরীরের এই বিশেষ অংশটি নিয়ে গবেষণা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রাচীন নথিপত্রে এর উল্লেখ থাকলেও বিংশ শতাব্দীর আগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল পাঠ্যবইগুলোতে এর স্থান হয়নি। এমনকি ১৯৯৫ সালের একটি শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল পাঠ্যবইয়ে এটিকে কেবল ‘পুরুষাঙ্গের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। অথচ এটি বহিরাঙ্গে দৃশ্যমান ক্ষুদ্র অংশের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা বিজ্ঞানের জন্য দেহদান করা দুজন বয়স্ক নারীর পেলভিক অঞ্চলে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে ইমেজিং ব্যবহার করে এই গবেষণা চালান। ডাচ গবেষকদের এই স্ক্যানে দেখা যায়, ক্লিটোরিসে যাওয়া প্রধান সংবেদনশীল স্নায়ুটি সোজা গিয়ে শেষ হয়ে যায়নি—যেমনটি আগের মডেলগুলোতে দেখানো হতো। বরং এটি গাছের ডালপালার মতো শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অঙ্গটির ভেতরে ও চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে।
গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ডক্টর জু ইয়ং লি জানান, “এটিই ক্লিটোরিসের গ্ল্যান্সের ভেতরের স্নায়ুগুলোর প্রথম ত্রিমাত্রিক মানচিত্র।” উল্লেখ্য, পুরুষদের শরীরের ক্ষেত্রে এমন একটি স্নায়ু মানচিত্র তৈরি হয়েছিল ১৯৯৮ সালেই।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সাফল্য ‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন’ (FGM) বা নারী খাৎনার শিকার হওয়া কোটি কোটি নারীর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে নতুন আশার আলো দেখাবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ কোটি নারী এই ক্ষতিকর প্রথার শিকার, যার ফলে শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি তাদের যৌন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন এই মানচিত্র সার্জনদের আরও নির্ভুলভাবে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার (Reconstructive Surgery) করতে সাহায্য করবে।
তাছাড়া, সন্তান প্রসবজনিত আঘাত সারিয়ে তোলার অস্ত্রোপচার বা নান্দনিক জেনিটাল সার্জারির সময় সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলো রক্ষা করতেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার কেবল সূচনা মাত্র। আগামী দিনে বিভিন্ন বয়সের নারীদের ওপর আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বড় শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব হবে।








