দুই বছরেও মেলেনি বিল, আর্থিক চাপে জলজীবন মিশনের ঠিকাদারদের ডেপুটেশন; মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

প্রগতি ত্রিপুরা, ৩০ জুলাই, ২০২৬: দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন সিপাহীজলা জেলার জলজীবন মিশন ও পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধান (DWS) দপ্তরের অধীনে কাজ করা শতাধিক ঠিকাদার। পাওনা অর্থ দ্রুত মেটানোর দাবিতে বুধবার বিশ্রামগঞ্জে ডিডব্লিউএস-এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

ঠিকাদারদের দাবি, গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে বিভিন্ন পানীয় জল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন বা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও অধিকাংশ বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি। অনেক প্রকল্পে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কাজ শেষ হলেও প্রাপ্য অর্থ হাতে না আসায় ঠিকাদারদের ওপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

তাদের অভিযোগ, বিল বকেয়া থাকায় শুধু ঠিকাদাররাই নন, তাঁদের অধীনে কর্মরত পাম্প অপারেটর, গাড়িচালক এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও নিয়মিত পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বহু পরিবারের জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে।

সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, প্রকল্প সংক্রান্ত পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি এবং আর্নেস্ট মানি ডিপোজিট (EMD)-এর অর্থও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ধাপে ধাপে বিল মেটানোর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। অনেক ঠিকাদার ঋণ নিয়ে প্রকল্পের কাজ চালিয়ে গেছেন, যার কারণে ঋণের বোঝাও বেড়েছে।

আসন্ন দুর্গাপূজার আগে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় তহবিল ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাদের মতে, দ্রুত অর্থ মেটানো হলে একদিকে যেমন ঠিকাদারদের আর্থিক সংকট কিছুটা লাঘব হবে, তেমনি বিভিন্ন পানীয় জল প্রকল্পের কাজও স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ঠিকাদারদের বক্তব্য, আপাতত তারা আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চান। তবে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

ডেপুটেশন গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ঠিকাদারদের মতে, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে জনস্বার্থে পরিচালিত জল সরবরাহ প্রকল্পগুলির কাজও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী