রাজস্ব দপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকে, রাজস্ব দপ্তরের আধুনিক উদ্যোগগুলি সুশাসনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক , ২৭ জুলাই, ২০২৬ : রাজ্যের ভূমি প্রশাসনকে আরও আধুনিক করার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব সংস্কার বিষয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সভাপতিত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট ফর ট্রান্সফরমেশন- এর কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অটোমেটিক মিউটেশন, চা-বাগান সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়, সার্কেল রেট যৌক্তিকীকরণ, নকশা প্রকল্প এবং অ্যাগ্রি-স্ট্যাক বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল অটোমেটিক মিউটেশন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় জমি নিবন্ধনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভূমির রেকর্ড হালনাগাদ তথা নামজারি হবে। ফলে সরকারি দপ্তরে বারবার যেতে হবে না, কাজ দ্রুত হবে এবং মানুষের ভোগান্তিও কমবে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতে স্বচ্ছতা বাড়বে, দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা কাজ কমবে এবং মানুষ দ্রুত ও নির্ভুল ভূমি-সংক্রান্ত পরিষেবা পাবেন। তিনি এই ব্যবস্থা ত্রিপুরায় চালুর আগে অন্যান্য রাজ্যে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেন।

চা শিল্প সম্পর্কেও বিভিন্ন প্রস্তাব বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে চা-পর্যটনের প্রসার, অব্যবহৃত চা-বাগানের জমির সদব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ। এর ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি চা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং চা শ্রমিক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং রাজ্যের অর্থনীতি উপকৃত হবে।

বৈঠকে নকশা প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। আধুনিক জরিপ প্রযুক্তি ও উচ্চমানের জিও-স্পেশিয়াল ম্যাপিং ব্যবহার করে নির্ভুল ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড তৈরি এবং শহরাঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শীঘ্রই আগরতলা পুরনিগম এলাকায় এর মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে অ্যাগ্রি-স্ট্যাক সংস্কার নিয়েও পর্যালোচনা করেন। রাজস্ব ও কৃষি দপ্তর যৌথভাবে এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষক নিবন্ধন, জমির ডিজিটাল মানচিত্র এবং ফসলের তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। এতে সরকারি সুবিধা দ্রুত পৌঁছাবে, কৃষি পরিকল্পনা আরও উন্নত হবে এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়বে।

বর্তমানে ত্রিপুরা ভূমি রাজস্ব এবং ভূমি সংস্কার আইনের আওতায় ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের পৃথক নামজারির ব্যবস্থা নেই। তাই প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের জন্য বিষয়টি মন্ত্রিসভায় তোলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি আধুনিক জরিপ যন্ত্র ব্যবহার করে ভূ-নকশা প্রকল্পের অধীনে বাকি প্রায় ৫ লক্ষ প্লটের ডিজিটাল সীমানা নির্ধারণ এবং ১,৩১,০০০টি বন পাট্টা জমির সীমানা নির্ধারণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে পারস্পরিক সমন্বয়, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে এই সংস্কারগুলি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগগুলি সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে, সরকারি পরিষেবা উন্নত করবে, বিনিয়োগ বাড়াবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং ত্রিপুরায় আধুনিক, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্যে, রাজস্ব দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে এবং অতিরিক্ত সচিব সুভাষ চন্দ্র সাহা। এছাড়াও রাজ্যের আটটি জেলার জেলাশাসকগণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন।

Leave a Comment

জিডিএমও-দের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান, চিকিৎসকদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের আপডেট রাখতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী