ওয়েব ডেস্ক, ২৫ জুলাই, ২০২৬: দীর্ঘ ৩৭ দিনের টানা আন্দোলনের পর দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিল ‘ককবাচ জনতা পার্টি’ (CJP)। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের স্পষ্ট আশ্বাস মেলায় “সদিচ্ছা বজায় রেখে” আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। একই দিনে নিট-ইউজি বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
কেন্দ্র ও সিজেপির বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো?
শনিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপির মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তাদের তৃতীয় দফার বৈঠক সফল হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সরকার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে— এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণের আশ্বাস: নিট (NEET) বিতর্কের জেরে যেসব পরীক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, সিজেপির পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল।
মামলা (FIR) প্রত্যাহার: গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময় দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫ থেকে ২০টি এফআইআর দ্রুত তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত আশ্বাসপত্র পাওয়ার কথা রয়েছে।
“আমাদের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই সমস্ত আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে যন্তর মন্তর থেকে শান্তিপূণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রয়োজন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ পরে জানানো হবে।”
— আশুতোষ রাঙ্কা, সিজেপি মুখপাত্র
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও নেপথ্যের পটভূমি
শনিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের যুবসমাজ যেন কোনো বিভ্রান্তির জালে আটকে না পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মে মাসে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যঙ্গাত্মক (satirical) অ্যাকাউন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই ‘ককবাচ জনতা পার্টি’ (CJP)। পরবর্তীতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মূল ভূমিকা পালন করে।
পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতের সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সিজেপি সরকারে কাছে একটি ৫ দফা দাবিসনদ জমা দিয়েছে। আগামী চার সপ্তাহ পর কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।








