দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, তেলিয়ামুড়া চাকমাঘাট  সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে বীরেন্দ্র দাসের বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস

অনলাইন ডেস্ক, ৪ জুলাই, ২০২৬: একটি রাস্তা শুধু ইট, বালি আর পিচের সমষ্টি নয়; একটি রাস্তা মানে মানুষের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই বহু প্রতীক্ষিত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল শনিবার।
তেলিয়ামুড়া চাকমাঘাট  সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে বীরেন্দ্র দাসের বাড়ি পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।

দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ এই রাস্তাটি এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্ষা এলেই কাদায় ঢেকে যেত পথ, যানবাহন চলাচল হয়ে পড়ত বিপজ্জনক। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, রোগী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারকে প্রতিদিনই ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হতো। বহুবার দাবি উঠলেও বাস্তবে কাজের সূচনা না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল।অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হল উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনই ঘটবে না, কৃষিপণ্য পরিবহণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশেও নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযোগ আরও সুদৃঢ় হওয়ায় এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “সরকারের উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দু সাধারণ মানুষ। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে একের পর এক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই রাস্তার কাজ শেষ হলে বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। আগামী দিনেও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”শিলান্যাসের পর এলাকাজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। স্থানীয়দের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আশার হাসি। তাঁদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নয়, বরং একটি অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় এবং বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার সুবিধা পান সকলেই।

Leave a Comment