চাকমাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা

প্রগতি ত্রিপুরা, ২০ জুন, ২০২৬: গ্রামের মানুষের দুয়ারে পৌঁছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও দৈনন্দিন সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে শনিবার সারাদিন চাকমাঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি ২৯ কৃষ্ণপুর মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস, খোয়াই জেলা পরিষদের সদস্য রঞ্জিত সরকার, মণ্ডল নেতৃত্ব এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা।

দিনভর একাধিক উঠোন বৈঠক ও ঘরোয়া আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে পানীয় জলের সংকট, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগ ও দাবি উঠে আসে। উপস্থিত বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের আবেদন জানান।

বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে বার্ধক্য ভাতা বন্ধ থাকার বিষয়টি। বহু প্রবীণ নাগরিক মন্ত্রীর সামনে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর মন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাতা প্রদানে বিলম্ব হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এদিনের আলোচনায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রেশম শিল্প ও তুঁত চাষের প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্দেশ্যে রেশম শিল্পভিত্তিক আয়ের পথ গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি স্বনিযুক্তির মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলির আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত করা সম্ভব।

এছাড়া সরকারি পরিষেবার সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ রাখার উপরও জোর দেন তিনি। আগামী দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি যাচাইয়ের কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলে উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে জন্মসনদ, আধার, রেশন কার্ড-সহ প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন। গ্রামীন এলাকায় বসবাসকারী এলাকার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই ছিল এই জনসংযোগ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কর্মসূচিতে উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, জনপ্রতিনিধিদের এই ধরনের সরাসরি জনসংযোগ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের সমস্যাকে প্রশাসনের নজরে আনতে এবং দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চাকমাঘাটের বিভিন্ন এলাকায় এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

Leave a Comment