মহেষপুর সীমান্তে গুলিবিদ্ধ বিএসএফ জওয়ান, উত্তর ত্রিপুরা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫: যখন প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ কার্যত অগ্নিগর্ভ।

একদিকে সংবাদমাধ্যমে লাগাতার হামলা ও অগ্নিসংযোগ, একের পর এক সাংবাদিক হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবক দ্বীপুচন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার নৃশংস ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উঠছে প্রতিবাদের ঝড়।

ঠিক সেই সময়েই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে ঘটে গেল এক রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে।

সোমবার রাতে ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার মহেষপুর সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন ৯৭ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ান বিপিন কুমার (৩৫)।রক্তাক্ত অবস্থায় সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যান ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে।

ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর জওয়ানের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রসূন ভট্টাচার্য জানান— গুলিবিদ্ধ বিএসএফ জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।

তাঁর বাম হাতের উপরের অংশে দুটি গুলি লাগার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আগরতলায় পাঠানো হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে এবং কোথা থেকে গুলি এলো? এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।

ঘটনার নেপথ্যে সীমান্ত পারাপার, চোরাচালান নাকি অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

যেহেতু উত্তর ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকাগুলি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই গোটা সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বিএসএফের তরফে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে বাংলাদেশের অস্থির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, অন্যদিকে সীমান্তে বিএসএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা -গোটা উত্তর ত্রিপুরা তথা ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ।

এখন সকলের নজরে একটাই প্রশ্ন -এই গুলি কি নিছক দুর্ঘটনা, না কি সীমান্তে বড় কোনও অশনি সংকেত?

Leave a Comment