অনলাইন ডেস্ক, ৬ জুন, ২০২৫ । ৬ই জন, ত্রিপুরা তথা ভারতের ইতিহাসে এক অভিশপ্ত দিন তথা কালোদিন। কারণ, ১৯৮০ সালের ৬ই জুন তারিখেই এরাজ্যে বাঙালী বিদ্বেষী উগ্রবাদী টিএনভি দল দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল এক ভয়াবহ গণহত্যা যা স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে নজীরবিহীন।
এই পরিকল্পিত গণহত্যায় এডিসির মান্দাই এলাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে রাজোর সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালীর হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ উগ্রবাদীদের দ্বারা নৃসংশভাবে খুন হয়, শ’য়ে শ’য়ে বাঞ্জলী মা-বোন ধর্ষিতা হয়, হাজার হাজার বাড়ীঘর জ্বলেপুড়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।
পরিণামে সেদিন লক্ষ লক্ষ বাঙালীকে প্রাণরক্ষার তাগিদে এলাকা ছাড়তে হয়েছিল যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা ও ত্রাণের অভাবে আজও স্বস্থানে ফিরতে পারেনি। অথচ সেদিনের বাঙালী গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় উপজাতি সমাজের যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তাদেরকে পূর্ণক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও আজ অবধি স্বজন ও সম্পদ হারানো বাঙালীদের দিকে সিপিএম, কংগ্রেস কেউ ফিরেও তাকায়নি।
বিপরীতে ক্ষমতা দখল তথা রাজনৈতিক স্বার্থে উপজাতি ভোটব্যাংক স্ফীত করতে ৮০ জুনের গণহত্যার নায়কদের শান্তির পরিবর্তে বারা বার আত্মসমর্পন নাটকের মাধ্যমে নগদ কোটি কোটি টাকা, সরকারী চাকরি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক তথা রাজনৈতিক পদ পাইয়ে দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়।
উগ্রবাদীদের শাস্তি দূরে থাক। বামামলে ত্রিপুরার প্রথম কম্যুনিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তীর সদম্ভ উক্তি ছিল, আমি যদি উপজাতি ঘরে জন্ম নিতাম, আমিও উগ্রপন্থী হতাম।’ কংগ্রেস-টিইউজেএস-এর জোট আমলেও দেখা গেছে, ৮০ জুনের গণহত্যার নায়ক বিজয় বাংখলের সঙ্গে রাজকীয় সম্মান দিয়ে দিল্লীতে চুক্তি সম্পাদন করতে।
তাই বাঙালী বিদ্বেষী সিপিএম-কংগ্রেসের উপর এরাজোর বাঙালীদের আর কোন ভরসা নেই। অধিকন্তু অবিভক্ত ভারতের ভূমিপুত্র, স্বাধীনতার রূপকার বাজলীদের কংগ্রেস সিপিএম আমলে ধারাবাহিক বঞ্চনা ও অত্যাচারের জন্যেও এদেশে বাঙালীরা আর কোনভাবেই সিপিএম, কংগ্রেসের মত্যে দলকে বিশ্বাস করতে বাজী নয়।
এমতাবস্থায় শেষ ভরসা করেই ২০১৮ এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা ঘ্রলী নতুন দল বিজেপিকে এরাজ্যের ক্ষমতায় বসায় ত্রিপুরার সংখ্যাগুরু মানুষের ধারনা ছিল, বিজেপি ৮০-জুনের গণহত্যার রহস্য উন্মোচন করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে।
কিন্তু চলতি ৭ বছরের শাসনে, রিয়াং শরনার্থী পুনর্বাসনে, গন্ডাছড়া, রাইয়াবাড়ী সা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উগ্রবাদীদের দ্বারা বাঙালীদের উপর আক্রমন-নির্যাতনের ঘটনা ও সরকারের ভূমিকায় বিষয়টি এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার যে, উগ্রপন্থী নীতি প্রশ্নে, ক্ষতিগ্রস্থ বাঙালীদের পুনর্বাসনের ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সিপিএম, কংগ্রেস ও বর্তমানের বিজেপি একই পথের পথিক।।
উক্ত পরিস্থিতিতে ৮০ জুনের গণহত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন, ক্ষতিগ্রস্থ বাঙালীদে পর্ণক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা দিয়ে স্বস্থানে পুনর্বাসনসহ নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে প্রতিবছরের মতো আমরা বাঙাল দলের পক্ষ থেকে আমরা বাঙালী রাজ্য কার্যালয়সহ, খোয়াই, কল্যাণপুর, তেলিয়ামুড়া, উত্তর ত্রিপুরা, উনকোটি, ধলাই জেলাস ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে ‘কালোদিবস’ পালন করা হচ্ছে।
আগরতলা রাজ্য অফিসে ৮০ জনের গণহত্যাসহ তৎপরবর্তী উগ্রবাদ হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে উল্লেখিত বক্তব্য পেশ করেন দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল।
উক্ত অনুষ্ঠাে অশোক কুমার দাস, দুলাল ঘোষ, রাখাল রাজ দত্ত, সিমন্তী দেব, গীতাঞ্জলী দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







