অনলাইন ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: আজ সকালে আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী ত্রিপুরা শিক্ষা কনক্লেভ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। বিদ্যা ভারতী শিক্ষা সমিতি, ত্রিপুরা এবং মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই শিক্ষা কনক্লেভের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এবং বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার রূপান্তরের বিভিন্ন উপায় অনুসন্ধান করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, এনইপি ২০২০ কেবল একটি নীতিগত দলিল নয়, বরং ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার রূপরেখা।
এই নীতিতে ভারতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা সকলের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সংগত ও প্রাণবন্ত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবে এবং ভারতকে বিশ্বে জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভ হলো প্রবেশাধিকার, সাম্য, গুণগত মান, সাশ্রয়যোগ্যতা ও জবাবদিহিতা। রাজ্যপাল বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরে এই নীতিগুলিকে পথনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বহুবিষয়ক শিক্ষা ব্যবস্থা, একাধিকবার প্রবেশ ও প্রস্থানের সুযোগ, অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অব ক্রেডিটস এবং আইআইটি ও আইআইএম-এর মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য বহুবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরার বিদ্যালয়গুলিতে এনইপি ২০২০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয় স্তরে এনসিইআরটি-এর পাঠ্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ভিত্তি আরও মজবুত হবে এবং তারা জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।
রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরা শিক্ষা কনক্লেভ ২০২৬-এর সাফল্য কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সম্মেলন-পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ ও ফলাফলের মাধ্যমেই তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশেষ চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক ডিজিটাল শিক্ষা মঞ্চ, শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়নের মতো বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণের পথ প্রশস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যা ভারতী পূর্বোত্তর ক্ষেত্রের সংগঠন সম্পাদক ড. পবন তিওয়ারি বিদ্যা ভারতী শিক্ষা সমিতির অবদান সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরেন। মহারাজা বীরবিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিভাস দেব স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যা ভারতী শিক্ষা সমিতি, ত্রিপুরা প্রান্তের সভাপতি অধ্যাপক মিলন রানি জমাতিয়াও উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার বিভিন্ন কলেজের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, অধ্যাপক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। লোকভবন থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








