প্রগতি ত্রিপুরা , ০৪ অক্টোবর, ২০২৬: বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে জোরালো আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ত্রিপুরা অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্স ইউনিয়ন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে আইসিডিএস-কে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ছয় বছরের কম বয়সি শিশুদের প্রাক্-শৈশব যত্ন ও শিক্ষার অধিকার এবং মহিলাদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে ৪৫তম ও ৪৬তম শ্রম সম্মেলনের সুপারিশ কার্যকর করা, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ন্যূনতম মজুরি ৪২ হাজার টাকা এবং পেনশন ২১ হাজার টাকা নির্ধারণ, পিএফ ও ইএসআই-সহ সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত নির্দেশ এবং গুজরাট হাইকোর্টের নিয়মিতকরণ সংক্রান্ত আদেশ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। চারটি শ্রম কোড প্রত্যাহার করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে।
সংগঠনের অভিযোগ, আইসিডিএস ব্যবস্থাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে সরাসরি নগদ হস্তান্তর, আধার বাধ্যতামূলক করা, ডিজিটাইজেশনের নামে নজরদারি এবং সেন্ট্রালাইজড কিচেনের মাধ্যমে বেসরকারিকরণের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র ভাতা পেয়ে আসছেন। পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে বহু কর্মী পেনশন থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন। নতুন শিক্ষানীতির ফলে শিশুদের প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার দ্রুত দাবিগুলো পূরণের উদ্যোগ না নিলে আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ স্কিম ওয়ার্কারকে নিয়ে পার্লামেন্ট মার্চের কর্মসূচি নেওয়া হবে।
অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্সের পক্ষ থেকেও সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দাবিগুলো বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।








