প্রগতি ত্রিপুরা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: আগরতলার দশমীঘাটে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে এক গাড়িচালককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দশমীঘাট এলাকার একটি ক্লাবের সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গাড়িচালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ চারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক জলফুমিয়া প্রতিমা বিসর্জনের জন্য গাড়ি নিয়ে দশমীঘাটে যান। প্রতিমা গাড়ি থেকে নামানোর পর গাড়িটি পিছনের দিকে নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ক্লাব সম্পাদক মিঠুনের গায়ে গাড়িটি অনিচ্ছাকৃতভাবে লেগে যায় বলে অভিযোগ।
এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। তাদের দাবি, গাড়িচালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে দশমীঘাট ক্লাব চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন যুবক তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকি তার কাছ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, মোবাইল ফোনের লক খুলে দেওয়ার জন্য ওই গাড়িচালকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি প্রথমে ফোনের লক খুলতে রাজি না হওয়ায় তাকে ফের মারধর করা হয় এবং এতে তার একটি হাত ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে ফোনের লক খুলে দেওয়ার পর সেটি নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।
পরিবারের দাবি, রাত প্রায় ২টা নাগাদ ওই গাড়িচালককে নদীর পাড় থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তাকে প্রথমে আগরতলার আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে টিএমসি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর আজ পশ্চিম আগরতলা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছে আহত গাড়িচালকের পরিবার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
তবে এই ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা, কারা ঘটনায় জড়িত এবং ঠিক কী কারণে গাড়িচালকের ওপর হামলা হয়েছে, তা পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।








