ভারত-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে: প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী মোদী

প্রগতি ত্রিপুরা, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: প্যারিসে নবনির্মিত ঐতিহাসিক স্বামীনারায়ণ মন্দিরের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আজ এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

ভার্চুয়াল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী আশাপ্রকাশ করে জানান, প্যারিসে স্থাপিত এই গ্র্যান্ড মন্দিরটি আগামী শতক ধরে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও নতুন সুযোগের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশ এক নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেছে। ২০২৬ সালকে ‘ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে, যা আমাদের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।”

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করান, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি ভূখণ্ডে ভারতীয় সৈনিকদের আত্মত্যাগ আজও দুই দেশের মানুষের হৃদয়ে অমলিন। এ ছাড়া, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার প্রসারে ফরাসি পণ্ডিতদের ভূমিকা, বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক রোমাঁ রোলাঁ কর্তৃক শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী রচনা, এবং পন্ডিচেরি শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের ‘শ্রীমা’-র প্যারিস থেকে ভারত আগমন—এ সবই দুই সংস্কৃতির গভীর বন্ধনের প্রমাণ। সাম্প্রতিক সময়ে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের নিচে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের জমকালো আয়োজনও দুই দেশের জনসংযোগকে সুদৃঢ় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্যারিসের নবনির্মিত বিএপিএস (BAPS) স্বামীনারায়ণ মন্দিরটি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এক অপূর্ব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর নিদর্শন। মন্দিরের পাথরগুলি ভারতে খোদাই করে আধুনিক ফরাসি প্রকৌশলের মাধ্যমে ফ্রান্সে সংযোজিত হয়েছে। এটি কেবল ফ্রান্সের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং সমগ্র ইউরোপে ভারতীয় সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী ভাবধারার বার্তা ছড়িয়ে দেবে।

ভবিষ্যতে সময় সুযোগ পেলে স্বয়ং এই মন্দিরে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চর্চার পাশাপাশি এই মন্দিরটি সার্বিক মানবসেবার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠবে।

Leave a Comment