প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসেবায় ২৫ বছরের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধ, নিরাপদ, আত্মনির্ভর ও উন্নত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে : মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসেবায় ২৫ বছরের গৌরবময় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়কে সম্মান জানিয়ে ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। আজ সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার এই প্রস্তাব এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সাফল্যের কথা জানাতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং ২০১৪ সালের ২৬ মে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নরেন্দ্র মোদি নিরবচ্ছিন্নভাবে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত ও নীতির কেন্দ্রে সর্বদা ‘দেশ আগে’ এবং ‘নাগরিক আগে’- এই আদর্শ অগ্রাধিকার পেয়েছে। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ যাত্রা ত্যাগ, উৎসর্গ ও জনকল্যাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০১৪ সালে দেশের মানুষ তাঁর হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিলে তিনি নিজেকে ‘প্রধান সেবক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ক্ষমতার পরিবর্তে সেবাকে শাসনের মূল কেন্দ্রে স্থান দেন। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’- এই মূলমন্ত্র সেই ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন কর্মযোগী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ‘নেশন ফার্স্ট’ বা দেশ আগে- এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন, যেগুলি কয়েক দশক ধরে বিলম্বিত ছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন, ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ পদ সৃষ্টি, শ্রম আইন সরলীকরণ এবং ঔপনিবেশিক আমলের আইনগুলির পরিবর্তে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ প্রবর্তন তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ও সীমারেখা স্পষ্ট করেছেন। ২০১৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে। ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি ঘাঁটিতে এয়ার স্ট্রাইক চালায়।

২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় পাকিস্তানজুড়ে সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। কয়েক দশক ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বর্তমানে সেখানে শান্তি, উন্নয়ন ও বিশ্বাসের এক নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১২ বছরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ও মর্যাদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০২৩ সালে ভারত সফলভাবে ঐতিহাসিক জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান মর্যাদার আরও একটি প্রমাণ হলো বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্বীকৃতি।

এ পর্যন্ত ৩৬টি দেশ তাঁকে তাদের সর্বোচ্চ বেসামরিক বা জাতীয় সম্মানে ভূষিত করেছে। কোটি কোটি ভারতীয়ের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সংসদে এ পর্যন্ত ২১ বার ভাষণ দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ত্রিপুরা ‘হীরা’ মডেলের সুফল পেয়েছে। হীরা বলতে হাইওয়েজ, ইন্টারনেট-ওয়েজ, রেলওয়েজ ও এয়ারওয়েজকে বোঝানো হয়েছে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন, পানীয়জল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো মৌলিক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, শিক্ষা, পর্যটন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার শক্তিবৃদ্ধি এবং জনজাতি জনগোষ্ঠী, নারী, যুবসমাজ ও কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কি অর্জন করতে পারে, ত্রিপুরা তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ ও ‘বিকশিত ভারত’-এর রূপকল্প অনুসরণ করে একটি নতুন ত্রিপুরা গড়ে তোলার কাজ চলছে। রাজ্যের জাতীয় সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়ন সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার ত্রিপুরায় মোট ৯২৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ছয়টি জাতীয় সড়ক অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৫১৪ কিলোমিটার সড়ক ইতিমধ্যে পেভড শোল্ডার-সহ দুই লেনে উন্নীত করা হয়েছে। রাজধানী শহরের কেন্দ্র দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল এড়াতে আগরতলা সিটি ওয়েস্ট বাইপাসের কাজ শুরু হয়েছে।

ব্যস্ত আগরতলা-চুড়াইবাড়ি এবং আগরতলা-উদয়পুর করিডোরকে চার লেনে উন্নীত করার বিষয়টি প্রকল্প অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং বনভূমির ছাড়পত্র প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে। রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বদরপুর-আগরতলা-সাব্রুম রেলপথের শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বৈদ্যুতিক ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হয়েছে। ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অধীনে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ধর্মনগর, কুমারঘাট, উদয়পুর ও আগরতলা- এই চারটি স্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে।

যাত্রীরা এর মাধ্যমে আধুনিক ওয়েটিং হল, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য উন্নত সুবিধা এবং ডিজিটাল ডিসপ্লের মতো পরিষেবা পাবেন। পাশাপাশি, চন্দ্রনাথপুর-সাব্রুমের ২৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে ২০১৮ সালের ৪ জুলাই আগরতলা বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘মহারাজা বীর বিক্রম মানিক্য কিশোর বিমানবন্দর’ রাখা হয়। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী বার্ষিক ৩০ লক্ষ যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন টার্মিনাল ভবন উদ্বোধন করেন। আগরতলা বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। বছরে ৪০,১৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন এয়ার কার্গো টার্মিনাল বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।

এর ফলে ত্রিপুরার ক্যুইন আনারস, কাঁঠাল এবং সুগন্ধি চাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় কৈলাসহর বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবিত করার কাজ চলছে এবং সেখানে রানওয়ে ও সীমানা প্রাচীরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কমলপুর বিমানবন্দরে একটি ‘ফ্লাইট ট্রেনিং অর্গানাইজেশন’ গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ত্রিপুরার যুবসমাজ বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। ডিজিটাল সংযোগের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘ভারতনেট’ প্রকল্পের আওতায় মোট ১,১৭৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৭১৪টিতে সরাসরি ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে গেছে।

এর মধ্যে ৫৭২টি অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৪২টি ভিলেজ কাউন্সিল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে। ‘ডিজিটাল ভারত নিধি ৪জি স্যাচুরেশন প্রকল্প’-এর অধীনে ১০৯টি টেলিকম সাইট কার্যকর রয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও ২৮টি সাইট প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন শিক্ষা এবং সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা বা ডিবিটি এখন প্রত্যন্ত জনজাতি এলাকাতেও পৌঁছে গেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামোর উন্নয়নে ‘নর্থ ইস্ট গ্যাস গ্রিড’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গেইল, আইওসিএল, ওএনজিসি, অয়েল এবং এনআরএল-এর যৌথ উদ্যোগ ‘ইন্দ্রধনুশ গ্যাস গ্রিড লিমিটেড’ মোট ১,৬৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্যাস গ্রিড নির্মাণ করছে।

এই গ্রিড আগরতলা সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের রাজধানীর সঙ্গে গুয়াহাটিকে সংযুক্ত করবে। ত্রিপুরায় ২৫৩.৫১ কিলোমিটার গ্যাস নেটওয়ার্কের ৮০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পানিসাগর-আগরতলা ট্রাঙ্ক লাইন, আইজল শাখা লাইন এবং নিপকো স্পার লাইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার রাইট-অব-ইউজ বা ব্যবহারের অধিকার-সংক্রান্ত অনুমোদন প্রদান করে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালিতে নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়নের গতিও বাড়বে।

বাংলাদেশ সীমান্তে সাব্রুম ল্যান্ড পোর্টের গুরুত্ব উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া নির্মিত এই বন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, কার্গো কমপ্লেক্স, গুদামঘর, ট্রাক ইয়ার্ড এবং ডিজিটাল কাস্টমসের সুবিধা রয়েছে। রেলপথ ও জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলি নির্মাণ করেছে রাজ্য সরকার। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সাব্রুমের দূরত্ব অত্যন্ত কম হওয়ায় স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সরাসরি সমুদ্রপথে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের ফলে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিবহণ ব্যয় কমবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে সাব্রুম ত্রিপুরার অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সহজে ব্যবসা পরিচালনা, নিয়মকানুন সরলীকরণ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে নিয়মকানুন সহজীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশজুড়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘রাইজিং নর্থ ইস্ট বিজনেস সামিট’-এ ১৫,৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। গত এক বছরে ৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এবছর জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ১০টি বিদেশি রাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও অংশ নেন। বিভিন্ন প্রধান ক্ষেত্র মিলিয়ে মোট ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব-সহ ৪৬৮টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বড় বিনিয়োগগুলিকে বাস্তবে রূপ দিতে একটি বিশেষ ‘১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ প্রস্তুত করেছে।

‘আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশন’-এর অধীনে শহরের রূপান্তরের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট সড়ক, সংযোগকারী অ্যাভিনিউ উন্নয়ন, রিভারফ্রন্ট এবং জলাশয় সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের তার, উন্নত নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ফুটপাত এবং এলইডি আলো-সহ স্মার্ট সড়কগুলি শহরের পরিবহণ ও পরিষেবা ব্যবস্থার মান বাড়িয়েছে। এর ফলে মাথার উপর ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল এবং নতুন পাকা রাস্তা বারবার খোঁড়াখুঁড়ির সমস্যা দূর হয়েছে। ১৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ ২৪ ঘণ্টা রিয়েল-টাইমে শহরের যান চলাচল, জননিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

হাওড়া রিভারফ্রন্ট উন্নয়ন, মহারাজা বীর বিক্রম হ্রদের সংস্কার, বিমানবন্দর সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা এবং উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ অ্যাভিনিউ পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি নদী ও হ্রদ সংরক্ষণ, পরিবারগুলির জন্য মনোরম বিনোদনস্থল তৈরি এবং রাজ্যের রাজকীয় ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজকের আগরতলা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী শহর হিসেবে গড়ে উঠছে।
গ্রামীণ এলাকায় পানীয়জল সরবরাহের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকার ৮৬.৫৯ শতাংশ পরিবারে নলবাহিত জলের সংযোগ পৌঁছে গেছে। ২০১৯ সালের আগস্টে এই মিশন শুরু হওয়ার সময় পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের হার ছিল মাত্র ৩.৫ শতাংশের সামান্য বেশি।

বর্তমানে ৪,৬৬৮টি গ্রামীণ জনপদে শতভাগ জল সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিষেবা কেন্দ্রগুলির ৯৭ শতাংশে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪,৪০২টি স্কুল এবং ৮,৫৫০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জল সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা, জলের গুণমান পরীক্ষা এবং নিজস্ব উদ্যোগে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্রাম জল ও নিকাশি কমিটিগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সম্প্রদায় নিজেদের জল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে ত্রিপুরার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন করেছে। ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-র আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ পরিবারের ১৭ লক্ষ নাগরিকের আয়ুষ্মান কার্ড রয়েছে।

৫.৭০ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগী নগদহীন চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন এবং এই প্রকল্পের অধীনে ৩০৭ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রাজ্যের নিজস্ব উদ্যোগ ‘মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-র মাধ্যমে আরও ২.৭০ লক্ষ পরিবারের ছয় লক্ষ কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পে ৯২ হাজারেরও বেশি সুবিধাভোগী নগদহীন চিকিৎসা পেয়েছেন এবং ৫০ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস-এ আসন সংখ্যা ২০২২ সালের ২০০টি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫৫০টিতে উন্নীত হয়েছে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ৩৭টি কলেজ ও প্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য ‘ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রাজ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১১টি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আগরতলায় ‘ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নেতাজি সুভাষ হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল’ এবং উদয়পুরে ‘ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ’-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জনজাতি কল্যাণের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পিএম-জনমন’ এবং ‘ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান’ বাস্তবায়নে ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ পারফর্মিং রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী-সহ জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। উচ্চশিক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর ত্রিপুরা দেশের তৃতীয় শতভাগ সাক্ষর রাজ্যের মর্যাদা অর্জন করেছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার ভিত্তিতে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।

সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর ইউনিভার্সিটি, ধন্বন্তরি স্কিল ইউনিভার্সিটি, আর্যাবর্ত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ধম্ম দীপা ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট ইউনিভার্সিটির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে রাজ্য সরকার উইমেন্স কলেজ এবং ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা টিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা প্রদান করেছে।

ধর্মীয় পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের আওতায় উদয়পুরের মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন করা হয়েছে। ১৫০১ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা ধন্য মাণিক্য প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির ‘মাতাবাড়ি’ নামে পরিচিত এবং ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম। প্রকল্পের অধীনে ভোগ ও প্রসাদ ঘর, বহুমুখী হল, ফুড কোর্ট, পূজাসামগ্রীর দোকান, আধুনিক শৌচাগার, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ এবং মন্দিরের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পানীয়জল সরবরাহ, নিকাশি, ড্রেন, ল্যান্ডস্কেপিং ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বর্তমানে মাতাবাড়ি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আধ্যাত্মিক পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মন্দির পরিচালনা ও তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা তদারকির জন্য রাজ্য সরকার ‘মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির ট্রাস্ট’ গঠন করেছে।

পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক প্রকল্পের অধীনে ছবিমুড়া, সোনামুখী ইকো অ্যাকোমোডেশন অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার পার্ক, চতুর্দশ দেবতা মন্দির এবং কসবা কালীবাড়ি মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ‘স্বদেশ দর্শন’ প্রকল্পের অধীনে ডুম্বুর হ্রদের উন্নয়ন করা হয়েছে। সেখানে ২৩টি লগ হাট এবং ১৫০টিরও বেশি বেসরকারি হোমস্টে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ভারতীয় ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক বা সিডবির আর্থিক সহায়তায় আগরতলার নিকটবর্তী জিরানীয়া মহকুমার শচীন্দ্রনগরে একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ভারত সরকারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন মন্ত্রক বা ডোনার পশ্চিম ত্রিপুরা, সিপাহীজলা, গোমতী ও ধলাই জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘মাতাবাড়ি পর্যটন সার্কিট’ উন্নয়নের জন্য ২১২ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ সহ একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই উদ্যোগগুলির ফলে রাজ্যে পর্যটকদের সংখ্যা ২০২২-২৩ সালে ২.৮৪ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৭.২৯ লক্ষে পৌঁছেছে।

ঊনকোটির ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঊনকোটি’ শব্দের অর্থ এক কোটির চেয়ে এক কম। সপ্তম থেকে নবম শতাব্দীর অসাধারণ পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্যের জন্য এই স্থান বিশেষভাবে পরিচিত। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ঊনকোটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পর্যটকদের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট পথ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে রাজ্য সরকার, যাতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও ভাস্কর্যগুলি যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকে। ঊনকোটির মাধ্যমে ত্রিপুরা বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও পরিচিতি অর্জন করছে। ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের প্রসারে স্থানীয় জনজাতি জনগোষ্ঠীর জন্য আতিথেয়তা, পরিবহণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন ক্ষেত্রে আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ‘ভোকাল ফর লোকাল’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী পণ্য রিগনাই, রিসা বা পাছরা, ক্যুইন আনারস, পবিত্র মাতাবাড়ির প্যারা এবং ত্রিপুরার সারিন্দা ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

পণ্যের গুণমান বজায় রাখতে কারিগর ও কৃষকেরা যৌথভাবে জিআই ব্যবহারকারী গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সমবায় বিপণন কেন্দ্রেও এই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্যগুলির পরিচিতি তুলে ধরা হচ্ছে। জিআই স্বীকৃতি এই পণ্যগুলির অনুকরণ রোধ, স্থানীয় তাঁতি, কৃষক ও কারিগরদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বহু প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করছে। আবাসন ও নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’-র আওতায় ত্রিপুরায় দরিদ্র মানুষের জন্য গ্রামীণ এলাকায় ৩.৫ লক্ষেরও বেশি এবং শহরাঞ্চলে ৮০ হাজারেরও বেশি পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারের নীতির কেন্দ্রে নারী ক্ষমতায়নকে রাখা হয়েছে।

স্বনির্ভর গোষ্ঠী, মুদ্রা ঋণ, বাড়ির মালিকানা প্রকল্প এবং জীবিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহিলারা উপকৃত হচ্ছেন। রাজ্যে প্রায় ১.৪০ লক্ষ নারী ‘লাখপতি দিদি’ হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিধান কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষক কল্যাণের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের অধীনে ত্রিপুরার ২.৮৫ লক্ষেরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১,০২১.২ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। ‘কিষাণ ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্পের আওতায় ৫৬,৬০০ জন কৃষককে ফসল ঋণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১,০৫,০০০ জন কৃষক ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা’-র আওতায় এসেছেন।

দারিদ্র্য বিমোচনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার প্রতিটি সরকারি সুবিধা প্রকৃত প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছে। এই ধরনের জনকল্যাণমুখী নীতির ফলেই ২০১৩-১৪ থেকে ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দেশে ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঐতিহাসিক অধ্যায়কে সম্মান জানিয়ে ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার প্রধান হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন ২৫ বছরের গৌরবময় সেবা সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির সেবায় তাঁর আত্মনিয়োগ ও নিষ্ঠার উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং জনভাগীদারিত্বের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের সুশাসন ও রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়ায় অংশীদার করে তোলার উদ্যোগগুলিরও প্রশংসা করেছে মন্ত্রিসভা। জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ়করণ, সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের প্রসার এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রিসভা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’- এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিচলভাবে কাজ করে যাওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও অব্যাহত কর্মময় জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানিয়ে তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধ, নিরাপদ, আত্মনির্ভর ও উন্নত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে বলে গভীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা।

Leave a Comment