শ্রম কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করল সিআইটিইউ

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬: সিকিউরিটি গার্ড ও সাফাই কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রম আইনের পূর্ণ প্রয়োগের দাবিতে সরব হলো বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ। সর্বভারতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার আগরতলায় শ্রম কমিশনারের হাতে একটি ১৩ দফা সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য শ্রমমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো এই স্মারকলিপিতে যৌথভাবে অংশ নেয় ত্রিপুরা প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ডস ইউনিয়ন এবং ত্রিপুরা সাফাই কর্মী ইউনিয়ন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজ্য ও দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সচল রাখতে এই দুই ক্ষেত্রের শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে বেসরকারি সংস্থা ও ঠিকাদারদের হাতে তারা শোষিত হচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় দিনরাত পাহারা এবং পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত থাকলেও মেলে না কাজের ন্যূনতম নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট ডিউটি সময় কিংবা সরকারি নির্ধারিত মজুরি।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংগঠনের সর্বভারতীয় প্রতিনিধি সাধন বসু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সারা দেশে এক কোটিরও বেশি এবং আমাদের রাজ্যে প্রায় ১২ হাজার সিকিউরিটি ও সাফাই কর্মী দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন। অথচ শ্রম আইনে স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও পিএফ, ইএসআই বা সাপ্তাহিক ছুটির মতো প্রাথমিক সুবিধাগুলো থেকেও অধিকাংশকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।”

সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে যে প্রধান দাবিগুলো হল শ্রম আইন মেনে নূন্যতম ও ন্যায্য মজুরি সুনিশ্চিত করতে হবে। ঠিকাদারি প্রথার নামে শ্রমিক শোষণ বন্ধ করে কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব দিতে হবে। পিএফ ও ইএসআই-এর মতো সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল বাধ্যতামূলকভাবে চালু করতে হবে। শ্রম দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারখানা ও সংস্থায় পরিদর্শন চালিয়ে বেআইনি কর্মপদ্ধতি রুখতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবহেলা বন্ধে অবিলম্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

Leave a Comment