আড়ালিয়ার একমাত্র লাইফলাইন যেন মরণফাঁদ! গাফিলতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পথ অবরোধের হুঁশিয়ারি

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬: যোগাযোগের একমাত্র প্রধান পথটিই এখন রূপ নিয়েছে মরণফাঁদে। বড় বড় খানাখন্দ, সামান্য বৃষ্টিতেই জলজট আর দুর্ঘটনাই যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। বারবার প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও সুরাহা মেলেনি। অবশেষে আড়ালিয়ার একমাত্র ‘লাইফলাইন’ রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন হাজার হাজার এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রের খবর, আড়ালিয়া এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসায় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া—সব কিছুর জন্যই এই একটি মাত্র রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার করুণ দশার কারণে চলাচলা তো দূরের কথা, যেকোনো দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পর্যন্ত সময়মতো এলাকায় পৌঁছাতে পারে না।

ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও রাস্তা সংস্কারের দাবিতে একাধিকবার ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলাকাবাসী প্রয়োজনীয় জমিও ছেড়ে দেন। কিন্তু কাজ শুরু হলেও তা মাঝপথে রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অর্ধেক কাজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে বাকি অংশ ফেলে রাখায় অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে এলাকাবাসী সম্প্রতি ফের পূর্ত (PWD) দপ্তরের দরজায় কড়া নাড়েন। সেখানে পিডব্লিউডি-র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব তরণের সাথে কথা বলেন প্রতিনিধিরা। প্রকৌশলী আড়ালিয়াবাসীকে দ্রুত রাস্তার বাকি কাজ সম্পন্ন করার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে শুধু আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে রাজি নন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। তাঁদের স্পষ্ট চ্যালেন্জ—আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে যদি বাস্তবে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু না হয়, তবে তাঁরা তীব্র আন্দোলনে নামবেন। প্রয়োজনে একই দিনে সোনামুড়ার চারটি প্রধান সড়ক একযোগে অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

এখন দেখার বিষয়, পূর্ত দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে জনভোগান্তি লাঘব করে, নাকি আড়ালিয়াবাসীদের দাবি আদায়ে পথ অবরোধের মতো কঠোর পদক্ষেপের পথেই হাঁটতে হয়।

Leave a Comment