ধর্মনগরে আট দফা দাবিতে জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের !

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬: উত্তর ত্রিপুরা জেলার খেটে খাওয়া মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জ্বলন্ত সমস্যা নিরসনের দাবিতে সরব হলো ত্রিপুরা ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে ধর্মনগরে মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করে সংগঠন।

এদিন বেলা একটা নাগাদ সিপিআইএম ধর্মনগর মহকুমা দপ্তরের সামনে থেকে এক সুসজ্জিত মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে পুনরায় মহকুমা দপ্তরের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসক ও সমাহর্তার দ্বারস্থ হন এবং আট দফা দাবি সম্বলিত এক স্মারকলিপি তুলে দেন।

প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক দুর্গেশ রায়, রাজ্য কমিটির সদস্য প্রীতি বালা নাথ, জেলা কমিটির সদস্য নিরঞ্জন চক্রবর্তী, পানিসাগর মহকুমা সম্পাদক অবনী দে এবং ধর্মনগর মহকুমা সম্পাদক অনুকূল দাস।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গরিব মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিতদের জন্য অবিলম্বে অসম্পূর্ণ জিও ট্যাগিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

গ্রামীণ শ্রমজীবীদের সুরক্ষায় এমজিএনরেগার আওতায় বছরে ২০০ দিনের কাজ ও দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত করা এবং শহরের টুয়েপ শ্রমিকদের কাজের দিন ও মজুরি বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। মাসের পর মাস বকেয়া মজুরি আটকে থাকা এবং সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম মজুরি প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি বিদ্যুতের অতিরিক্ত মাশুল ও স্মার্ট মিটার অবিলম্বে প্রত্যাহার, গ্রাম পঞ্চায়েত, এডিসি ভিলেজ ও শহরের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া রাস্তাঘাটের জরুরি সংস্কার এবং ভূমিহীন গ্রামীণ গরিবদের জমির বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিও স্মারকলিপিতে জোরালোভাবে তোলা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি রোধে রেশন ও ন্যায্যমূল্যের দোকানের মাধ্যমে মাথাপিছু ১২ কেজি চাল সহ ডাল, চিনি, সরষের তেল, লবণ ও সাবান ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহের আর্জি জানানো হয়।

এছাড়া জেলার গ্রাম ও শহরে তীব্র পানীয় জলের সংকট মেটাতে বিকল হয়ে পড়ে থাকা আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্টগুলির দ্রুত সংস্কার এবং প্রতি মাসে নিয়মিত সামাজিক ভাতা প্রদানের পাশাপাশি ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৫০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে ইউনিয়ন।প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপির প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য অনুরোধ জানান।

Leave a Comment