পাথর ভাঙ্গা ক্রাশার থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে আটক এক

অনলাইন ডেস্ক, ৫ অগাস্ট,২০২৬: উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা থানাধীন ঝেরঝেরী এলাকায় পাথর ভাঙার ক্রাশার থেকে মূল্যবান লোহার যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক কুখ্যাত চোর। ধৃতের নাম আব্বাস উদ্দিন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঝেরঝেরী এলাকার একাধিক পাথর ভাঙার ক্রাশার থেকে দামী যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছিল। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ক্রাশার মালিকরা যৌথভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেন। সেই পাহারার সময় বুধবার দুপুরে ইমদাদুর রহমানের ক্রাশার থেকে লোহার মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করার সময় আব্বাস উদ্দিনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ধৃতের বাড়ি কদমতলা থানাধীন বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝেরঝেরী এলাকায়।

স্থানীয় মানুষ ও ক্রাশার মালিকরা অভিযুক্তকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে পরে কদমতলা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত চোর স্বীকার করে যে, সম্প্রতি চুরি করা বিভিন্ন লোহার যন্ত্রাংশ কদমতলা বাজারের গোপাল নাথের ভাঙারি দোকানে বিক্রি করেছে।

এরপর পুলিশ অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক ক্রাশার মেশিনের ‘রুলি’ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া যন্ত্রাংশগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ, আরও কিছু চুরি যাওয়া যন্ত্রাংশের হদিস মেলেনি। এদিকে অভিযানের সময় ভাঙারি ব্যবসায়ী গোপাল নাথকে দোকানে পাওয়া যায়নি।

ক্রাশার মালিক বিল্লাল আহমেদ জানান, প্রায় এক বছর আগেও একই ধরনের চুরির ঘটনায় কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ও পুলিশের সহযোগিতায় এই ধরনের ব্যবসায়িক দোকান থেকে ক্রাশারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, কম দামে চুরি হওয়া মালামাল কেনার মাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চোরদের উৎসাহ দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃত আব্বাস উদ্দিন সম্প্রতি একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পর ফের চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কদমতলা থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার ক্রাশার মালিকরা।

Leave a Comment