প্রগতি ত্রিপুরা, ৩ জুলাই, ২০২৬ । নরসিংগড় ল’ কলেজের বয়েজ হোস্টেলের নির্মাণস্থল থেকে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত শ্রমিক অসমের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, নরসিংগড় ল’ কলেজ ও নরসিংগড় মানসিক হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সরকারি নির্মাণকাজ চলছে। এই ঘটনার পর নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। সেফটি হেলমেট, সেফটি বুট, সেফটি বেল্ট, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি নিরাপত্তা অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি বহুতল নির্মাণকাজে নিরাপত্তা জালের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া বহিরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং স্থানীয় থানায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার একাংশের দাবি, কিছুদিন আগে অসম পুলিশের একটি দল একটি খুনের মামলার তদন্তে এই নির্মাণস্থল থেকে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
আরও অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার চাপের কারণে কম সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করানো হয়, যা শ্রমিকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই অভিযোগেরও এখনও কোনও সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যা হয়ে থাকলে তার পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রজনিত কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নির্মাণ সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শ্রম দপ্তর, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করুক এবং নির্মাণস্থলে শ্রম আইন ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে কার্যকর নিশ্চিত করুক। পাশাপাশি, এই মৃত্যুর ঘটনায় কারও গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।








