কভার ড্রেন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।

প্রগতি ত্রিপুরা, ২ জুলাই, ২০২৬ । কৈলাসহরের শহর এলাকায় জল নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে বলে সরব হয়েছে কৈলাসহর জেলা কংগ্রেস।

শহর রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে সঠিক ভাবে ড্রেন নির্মাণ করা না হলে খুব শীঘ্রই শহরবাসীকে সাথে নিয়ে কংগ্রেস আন্দোলনে নামবে বলেও সাংবাদিক সম্মেলন করে জানানো হয়েছে।

কৈলাসহর শহরের জেলা কংগ্রেস ভবনে জেলা কংগ্রেস আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক বিরজিত সিনহা এবং জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।

সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান যে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কৈলাসহরে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই শহরের অধিকাংশ জায়গাই জলমগ্ন হয়ে যেত। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করা হয়েছিলো।

যার সাক্ষী রয়েছেন শহরবাসীরা। ইদানীং কালে কৈলাসহর পুর পরিসদ শহর এলাকার জল নিষ্কাশনের জন্য গোটা শহরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ কভার ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এই কভার ড্রেন নির্মাণের জন্য কৈলাসহর পুর পরিষদ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কাজের জন্য টেন্ডার কল করে।

কাজটি করার দায়িত্ব পায় রাজস্থানের আর.সি.পি.এল নামক এক বেসরকারি সংস্থা। কাজের দায়িত্ব পেয়েই রাজস্থানের বেসরকারি সংস্থাটি আগরতলার এক বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে সাম্প্রতিক কালে কৈলাসহরের শহর এলাকায় কভার ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিন্তু কভার ড্রেন নির্মাণের শুরুতেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে বলে দাবী করেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে দেখা যায় যে, পুরাতন যে ড্রেন ছিলো সেই ড্রেন থেকে নতুন ড্রেনটি আকারে অনেকটাই ছোট হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন আকারে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।

অর্থাৎ কোন জায়গায় ড্রেন বড় হচ্ছে আবার, কোন জায়গায় ড্রেন ছোট হচ্ছে। অরিজিনাল ডিপিআর অনুযায়ী ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে হচ্ছে না বলে দাবী করেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।

তাছাড়া রাজস্থানের আর.সি.পি.এল নামক বেসরকারি সংস্থার কোনো ইঞ্জিনিয়ার কিংবা কোনো আধিকারিক ড্রেন নির্মাণস্থলে আজ অব্দি কেউ আসেনি। এছাড়াও আরও গুরুতর অভিযোগ যে, নতুন কভার ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে পুরাতন ড্রেন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

পুরাতন ড্রেন ভাঙ্গার পর যে ইট এবং লোহার রড গুলো বের হচ্ছে সেগুলো রাতের অন্ধকারে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। পুরাতন ড্রেন ভেঙ্গে যেভাবে নতুন কভার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে শহরবাসীর কোনো লাভ হবে না। আগামী দিনেও শহর জলমগ্ন হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।

খুব শীঘ্রই যদি ডিপিআর মোতাবেক কভার ড্রেন নির্মাণের কাজ করা না হয় তাহলে, কৈলাসহর জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কৈলাসহর শহর এলাকায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে জানান জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান।

Leave a Comment