অনলাইন ডেস্ক, ১জুলাই, ২০২৬: তপশিলিজাতি অংশের মানুষের ও ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক কল্যাণে তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক, কর্মচারি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি দ্রুত এসসি অংশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে একটি রূপরেখা তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরজন্য একটি সর্বাঙ্গীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তপশিলিজাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস আজ সোনারতরী রাজ্য অতিথিশালায় তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের রাজ্যভিত্তিক এক পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন।
পর্যালোচনা সভায় তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা ভাস্বর ভট্টাচার্য, উপ অধিকর্তা প্রদীপ রিয়াং, জেলা কল্যাণ আধিকারিক, মহকুমা কল্যাণ আধিকারিক ছাড়াও শিক্ষা, গ্রামোন্নয়ন, পূর্ত প্রভৃতি দপ্তরের আধিকারিকগণ অংশ নেন। পর্যালোচনা সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, এই পর্যালোচনা সভায় গত অর্থবছরে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পগুলি রূপায়ণে কতটা সফলতা এসেছে, কোন কোন স্তরে অসম্পূর্ণতা রয়েছে তার মূল্যায়ণ করা হবে।
তিনি বলেন, রাজ্যে ৩৪টি তপশিলিজাতি সম্প্রদায়ের জনগণ বাস করেন। রাজ্য সরকার তপশিলিজাতি অংশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও স্বরোজগারী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। পর্যালোচনা সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রী আদর্শ গ্রাম যোজনা, প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদ্বয় যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী তপশিলিজাতি বিকাশ যোজনা, বিভিন্ন স্কলারশিপ, নিউক্লিয়াস বাজেট, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের বর্তমান অবস্থা প্রভৃতি প্রকল্প বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
তিনি রাজ্যের প্রতি জেলায় মুখ্যমন্ত্রী তপশিলিজাতি বিকাশ যোজনা বিষয়ক কর্মশালা করার পরামর্শ দেন। পর্যালোচনা সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার তপশিলিজাতির জনগণের কল্যাণে গৃহীত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পর্যালোচনা সভায় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আলোচনার সূচনা করেন তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা ভাস্বর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ১৭ হাজার ৫৪৫ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রিমেট্রিক স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পে নবম ও দশম শ্রেণির ৭৬২৪ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। একাদশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত পড়ুয়া ২০ হাজার ৯৪ জন ছাত্রছাত্রীকে পোষ্ট মেট্রিক স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রফেশন্যাল কোর্সে পড়ুয়া ৫৭৫ জন ছাত্রছাত্রীকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৩৫৪ জন ছাত্রছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। ড. আম্বেদকর স্মৃতি মেধা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ৭১৭২ জন ছাত্রছাত্রীকে। ড. আম্বেদকর স্মৃতি বিশেষ মেধা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ২ জনকে। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মুখ্যমন্ত্রী তপশিলি জাতি বিকাশ যোজনায় পোল্ট্রি মোরগ, হাঁসপালনে ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ১৯২৮ জনকে সহায়তা করা হয়েছে।
এই প্রকল্পে মহারাজগঞ্জ মৎস্য বাজার, পেঁচারদহর ওয়াটারবডি এবং বাতাসিডেপা ওয়াটারবডি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তিনটি প্রজেক্টে ৭২৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। ইন্টারকাষ্ট ম্যারেজে ২৭টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদ্বয় যোজনায় রাজ্যের ৩৩টি গ্রামে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। পাবিয়াছড়া এবং রাঙামাটি এসসি গার্লস হোস্টেল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ৩২টি হোস্টেলে কোর সাবজেক্টের জন্য ১১৯ জন শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তিনি বাবু জগজীবন রাম স্মৃতি ছাত্রাবাস যোজনা, স্ব-উদ্যোগীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ত্রিপুরা তপশিলিজাতি সমবায় উন্নয়ন নিগমের ঋণ আদায় প্রভৃতি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন। পর্যালোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহের আধিকারিকগণ তাদের গৃহীত প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন।








