ধর্মনগর, ৩০ জুন: ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তর পরিচালিত বিশ্বব্যাংক-সহায়তাপ্রাপ্ত (World Bank-funded) Tripura Rural Economic Growth and Service Delivery Project (TRESP)-এর উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিট (DPMU)-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জেলা-স্তরের পর্যালোচনা সভা ও বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (Annual Action Plan) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিস চাঁদনী চন্দ্রন, আইএএস। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক বিজয় সিনহা, দাসদা, লালজুরি, জম্পুই হিল ও দামছড়া আরডি ব্লকের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO), প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক, মহকুমা মৎস্য আধিকারিক, ট্রেস্প-এর জেলা ও ব্লক পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে জেলার চারটি ব্লকে ট্রেস্প প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার মানুষের টেকসই জীবিকা, কৃষি, পশুপালন, মৎস্যচাষ এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেলা শাসক সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে আরও সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও ইউনিটগুলিকে সম্মাননা প্রদান। এদিন দাসদা ব্লক প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (BPMU)-কে উত্তর ত্রিপুরা জেলার সেরা বিএপিএমইউ হিসেবে সম্মানিত করা হয়। দক্ষ পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন, দলগত সমন্বয় এবং গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়।
এছাড়াও লালজুরি আরডি ব্লকের ভারতী নাথ সেরা পশু সখী, দামছড়া আরডি ব্লকের রাহাবি রিয়াং সেরা মৎস্য সখী এবং দামছড়া আরডি ব্লকের অনিতা মারাক সেরা কৃষি সখী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন।
জেলা শাসক মিস চাঁদনী চন্দ্রন পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ট্রেস্প প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দাসদা বিএপিএমইউ-এর এই সাফল্য জেলার অন্যান্য ব্লককেও আরও উন্নত কর্মসম্পাদনে অনুপ্রাণিত করবে এবং বিশ্বব্যাংক-সহায়তাপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর ত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।








