ধর্মনগরে সরকারি রাস্তা দখলের মহোৎসব! নির্বিকার প্রশাসন!!

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ জুলাই, ২০২৬: উত্তর জেলার ধর্মনগর শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং লাগামহীন যানজটে অতিষ্ঠ শহরবাসী। বিগত অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও শহরের প্রধান সড়কগুলোর চেহারায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ। ১৯৫২ সাল পরবর্তী সময় থেকে বহু সরকার এলেও শহরের রাস্তাঘাট এবং নিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে।

​২০১৮ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন বিধানসভার স্পিকার তথা বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন শহরের যানজট নিরসনে কয়েকটি রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল জনজীবনকে স্বস্তিদায়ক করা। কিন্তু বর্তমানে সেই উদ্যোগের সুফল আমজনতার কপালে জুটেনি, বরং কতিপয় প্রভাবশালী ও শাসকদলের নেতা-কর্মীরাই সুবিধাভোগী হয়েছেন বলে অভিযোগ।
​সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা এখন শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘মায়া সিনেমা হল চৌমুহনী’ এলাকায়। অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্ত করার জায়গা এখন কার্যত ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় এক ওষুধ ব্যবসায়ী নীলাঞ্জন পাল সরকারি জমি দখল করে সেটিকে নিজের পার্কিং জোন ও দোকানের বর্ধিত অংশ হিসেবে ব্যবহার করছেন। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা ‘বাজার কলকাতা’ শোরুমের সামনে। সেখানে আগত ক্রেতাদের যানবাহন রাস্তার ওপর যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে, যার ফলে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দখল হয়ে গেছে ফুটপাথও। ক্রেতাদের গাড়ি, বাইক ও অটো-রিকশার দাপটে পথচারীদের হাঁটাই দায় হয়ে পড়েছে।

​সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটছে ট্রাফিক পুলিশ এবং ধর্মনগর পুরপরিষদের চোখের সামনেই। অথচ, দায়িত্বশীল এই প্রশাসন ও পুরকর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন তাঁরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দখলদারিত্বের পেছনে স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতার মদত রয়েছে, যার ফলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে ভয় পায়। ​নাগরিকদের একাংশের ক্ষোভ, সরকারি রাস্তা কি তবে ব্যক্তিগত পার্কিং বা দোকানের বর্ধিত অংশের জন্য বরাদ্দ? অবিলম্বে ধর্মনগরের এই বেআইনি জবরদখলমুক্ত করা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শহরবাসী। প্রশাসনের নীরবতা আর কতদিন বজায় থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment