প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬: উত্তর ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে ধর্মনগর মহকুমায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন থানার এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বাড়িঘর, দোকানপাট, নির্মীয়মাণ ভবন থেকে শুরু করে মোটরবাইক—কিছুই চোরদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ।সম্প্রতি ১৮ এপ্রিল ধর্মনগর থানার অন্তর্গত সোনারুবাসা বনবাড়ি এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ আবাসিক স্কুল ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ রড চুরির ঘটনা সামনে আসে।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ পরিচালিত ‘পূজ্য অশোক সিংঘল সেবা প্রকল্প’-এর অধীনে নির্মীয়মাণ ওই ভবন থেকে রড চুরির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ প্রায় দেড় টন চুরি যাওয়া রড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় ইয়াকুবনগর এলাকার বাসিন্দা গয়াস মিয়া ও তার ছেলে রাহুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পরে তদন্তে উদ্ধার হওয়া রড যেখানে রাখা হয়েছিল,সেই পুকুরের মালিক সুলাজ মিয়াকেও খোঁজে তল্লাশি চালায় পুলিশ। অবশেষে শুক্রবার রাতে অভিযানে গিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত সুলাজ মিয়াকে গ্রেফতার করতে গেলে পালানোর উদ্দেশ্যে পুকুরে ঝাঁপ দেয় এবং পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টা করে।
পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হলে একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল কালাম নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গেছে,অভিযুক্তদের বাড়ি ভাগ্যপুর এলাকায়।ধর্মনগর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মীনা দেববর্মা জানান,পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের শনিবার ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হয়েছে।








