প্রগতি ত্রিপুরা, ১৯ জুন , ২০২৬: ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস লিমিটেড এবং প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আজ আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনের প্রেক্ষাগৃহে ভেটেরিনারি ভ্যাকসিনের গুরুত্ব বিষয়ক একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য গবাদি পশুর বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভেটেরিনারি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করা।
কর্মশালায় ইনফেকশাস বোভাইন রাইনোট্রাকাইটিস, থাইলেরিওসিস এবং সিস্টিসারকোসিস রোগের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভেটেরিনারি ভ্যাকসিনের সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নতুন উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল প্রাণীপালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. এন. কে. চঞ্চল, আইএফএস, ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এন. এস. এন. ভার্গভ, টিটিএএডিসি-প্রিন্সিপাল ভেটেরিনারি অফিসার রত্নেশ্বর দেববর্মা, দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিক, পশুচিকিৎসক এবং ভেটেরিনারি বিজ্ঞানীরা। কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার বলেন, বর্তমান সময়ে প্রাণীসম্পদ ও পশুস্বাস্থের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশন, রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশন এবং ASCARD-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দপ্তর উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগের প্রকৃতি, নির্ণয় ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি প্রাণীচিকিৎসকদের প্রাণীপালকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে রোগ সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করার আহ্বান জানান। সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, ভেটেরিনারি বিজ্ঞানীরা নতুন রোগ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ও ওষুধ উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে বর্তমানে ভেটেরিনারি ওষুধের মূল্যও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা প্রাণীপালকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. এন. এস. এন. ভার্গভ। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নিয়ে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে দুগ্ধ ও প্রাণীপালন খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাণীপালকদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে ভ্যাকসিন ব্যবহারের উপর গুরুত্বারূপ করেন।








