ধর্মনগরে বন্যা মোকাবিলার মহড়া,দেরিতে শুরু ঘিরে উঠল একাধিক প্রশ্ন!

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৯ জুন , ২০২৬: বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি যাচাই এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুক্রবার ধর্মনগরের হাফলং চা বাগান এলাকায় মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মহকুমা স্তরের বন্যা মোকাবিলা বিষয়ক মক ড্রিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কর্মসূচি শুরু না হওয়ায় উপস্থিত সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।মহড়ার শুরুতে দেখানো হয়,প্রবল ঝড়-বৃষ্টির ফলে একটি বড় গাছ সড়কের উপর ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।খবর পেয়ে সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক,আপদ মিত্র,ফায়ার সার্ভিস ও পিডব্লিউডি কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাটার মেশিন ও ডোজারের সাহায্যে দ্রুত গাছ অপসারণ করে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করেন।

এরপর বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের মহড়া প্রদর্শন করা হয়।উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ওবিএম বোটের সাহায্যে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর এবং বাকিদের সামান্য আহত হিসেবে চিহ্নিত করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আহতদের ফায়ার সার্ভিসের জরুরি যান ও অ্যাম্বুলেন্সে করে হাফলং টি.এইচ.এস. স্কুল মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাশাপাশি দুর্গতদের জন্য একটি শেল্টার হাউসের ব্যবস্থাও রাখা হয়।মহড়া শেষে ধর্মনগর মহকুমার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ডিএসএম তনুজিৎ সাহা জানান,দুর্যোগের সময় বিভিন্ন দপ্তরের প্রস্তুতি,কার্যক্রম এবং পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করাই এই মক ড্রিলের মূল উদ্দেশ্য।

বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণে আয়োজিত এই মহড়া ভবিষ্যতে বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।মহড়া শুরুতে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন,সকাল থেকে বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল,যন্ত্রপাতি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লেগেছে।

তিনি সাধারণ মানুষকে বন্যা পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে নিকটবর্তী শেল্টার হাউস বা নিরাপদ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইফ জ্যাকেট,উদ্ধারকারী নৌকা এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান।

Leave a Comment