বিকশিত ভারত গড়ার ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হল ছাত্রসমাজ: মুখ্যমন্ত্রী, দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষে পৌঁছাবে তখন আজকের তরুণ প্রজন্মই হবে ভারতের প্রধান কারিগর: পরীক্ষা পে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: পরীক্ষা মানেই ভয় নয়, বরং সেই ভয় কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এক মাধ্যম। আজ নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে আয়োজিত ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র নবম সংস্করণে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিশা দেখানোর পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প নিতে উদ্বুদ্ধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা বা মার্কস ব্যাধি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মানুষ শিক্ষার প্রভাবের উপরই গুরুত্ব প্রদান করে থাকে বেশী। তাই নম্বর ও দক্ষতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিশা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ বছর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষে পৌঁছাবে, তখন আজকের তরুণ প্রজন্মই হবে ভারতের প্রধান কারিগর। তাই এখন থেকেই ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিদেশি পণ্যের মোহ ত্যাগ করে দেশীয় সম্পদ ও সংস্কৃতির ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মন্ত্র দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যের শক্তিই হলো সবচেয়ে বড় সাহস।

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ফুটপাথে থাকা একজন সাধারণ নারীও যখন টেলিভিশনে কোনও সত্য ঘটনা বলেন, তখন তাঁকে অনেক আত্মবিশ্বাসী দেখায়। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই জ্ঞানের উপর সেই বিশ্বাস রাখতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকের শেখানোর গতির চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করলে যে কোনও কঠিন বিষয় সহজ হয়ে যায়।

নিয়মিত শেখার অভ্যাস, সময় ব্যবস্থাপনা, নিয়মানুবর্তিতা, জীবনশৈলী, শরীরচর্চা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেবল জীবনের একটি অংশ মাত্র, এটিই শেষ কথা নয়। কথোপকথন পর্ব শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজ হাতে তৈরী বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। তাঁদের মধ্যে ত্রিপুরার এক ছাত্র মাতা ত্রিপুরাসুন্দরীর ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহারস্বরূপ প্রদান করেন।

শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মন্ত্র দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্যের শক্তিই হলো সবচেয়ে বড় সাহস। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ফুটপাথে থাকা একজন সাধারণ নারীও যখন টেলিভিশনে কোনও সত্য ঘটনা বলেন, তখন তাঁকে অনেক আত্মবিশ্বাসী দেখায়। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই জ্ঞানের উপর সেই বিশ্বাস রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকের শেখানোর গতির চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করলে যে কোনও কঠিন বিষয় সহজ হয়ে যায়। নিয়মিত শেখার অভ্যাস, সময় ব্যবস্থাপনা, নিয়মানুবর্তিতা, জীবনশৈলী, শরীরচর্চা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা কেবল জীবনের একটি অংশ মাত্র, এটিই শেষ কথা নয়।

কথোপকথন পর্ব শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজ হাতে তৈরী বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। তাঁদের মধ্যে ত্রিপুরার এক ছাত্র মাতা ত্রিপুরাসুন্দরীর ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহারস্বরূপ প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের হল ঘরে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ সবার সম্মুখে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র বিষয়সমূহ নিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ের উপর বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা। এটি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ২০১৮ সাল থেকে এই অনুষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৮ বছর ধরে এই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন করে আসছে। আজ এর ৯ম সংস্কারণ সম্প্রসারিত হলো। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা হলো নিজের জ্ঞান, পরিশ্রম এবং দক্ষতা প্রদর্শনের একটি সুযোগ, কোনও প্রকার ভয়ের বিষয় নয়।

মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনে সফল হতে গেলে নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার, আচার-ব্যবহারের উন্নতিকরণ, শরীরচর্চা, আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। নিজেকে উপলব্ধি করা, নিজ বিকাশসাধন হলো শিক্ষার মূল বক্তব্য। এবং এটা সম্ভব হয় প্রকৃত এবং গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে। তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

এইক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের প্রতিনিয়ত আপডেট থাকা এবং ছাত্রছাত্রীদের নিজের কাজের মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারও গুণগত শিক্ষার প্রসারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নারী শিক্ষা এবং নারী স্বশক্তিকরণেও রাজ্য এগিয়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মেয়ের রেলের লোকো পাইলট হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত গড়ার ক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠিই হল আজকের ছাত্রসমাজ। তাঁদের সাফল্যের মধ্য দিয়েই রাজ্য ও দেশ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

Leave a Comment