প্রগতি ত্রিপুরা, ১০ অক্টোবর, ২০২৫। আরও এক পলাতক আসামি ধৃত এখন অবধি জেল থেকে পলাতক তিনজনকে পাকড়াও করলো পুলিশ।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে যখন গোটা ত্রিপুরা উৎসবের রঙে রঙিন, তখনই নবমীর সকালে ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
উত্তর জেলার ধর্মনগরের কালিকাপুর এলাকায় অবস্থিত সাব-জেল থেকে একসঙ্গে পালিয়ে যায় ছয়জন কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্ত আসামী।
জেল কর্মীদের মারধর করে এক প্রকার ফিল্মি কায়দায় পালিয়ে যায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা।
মুহূর্তের মধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা জেলাজুড়ে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।
তড়িঘড়ি তদন্তে নামে ধর্মনগর থানার পুলিশ। টানা অভিযান চালিয়ে অবশেষে বড় সাফল্য আসে পুলিশের হাতে — পলাতক ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধৃতদের নাম — নারায়ণ দত্ত, আব্দুল পাতা ও রহিম আলী। এদের নারায়ন দত্ত ও আব্দুল পাতাকে আগে আটক করলেও শুক্রবার ভোরে অসমের শ্রীভূমি থেকে রহিম আলীকে আটক করেছে পুলিশ।
সে উত্তর ফুলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সে বিভিন্ন চুরি ডাকাতি সহ নানা অপকর্মের মামলায় অভিযুক্ত ছিল।তবে এখনও অধরা রয়েছে আরও তিনজন পলাতক আসামী — রোসন আলী,কুখ্যাত ডাকাত নাজিম উদ্দিন ও সুনীল দেববর্মা।
বাকি তিনজনের সন্ধানে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি,যাতে কোনোভাবেই পলাতক আসামিরা রাজ্যের বাইরে বা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,ধৃত তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি পলাতকদের সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানান,“অতি শীঘ্রই বাকি পলাতকরাও পুলিশের জালে ধরা পড়বে। অভিযানে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।”
অন্যদিকে,দুর্গাপূজার সকালে এমন পলায়ন ঘটনার পর থেকেই জেল প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটির পর সাব-জেলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর পাঁচজন জেল কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
ধর্মনগরের এই ঘটনায় এখনো উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য বজায় রয়েছে। পুলিশের সক্রিয়তায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও,বাকি তিন পলাতক আসামী এখন অধরা!








