এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের বদলির নির্দেশে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, পদে বহাল সুবীর দাস

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৭ অক্টোবর: পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের বিশালগড় ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুবীর দাসের বদলির নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশে আপাতত নিজের পদে বহাল থাকছেন সুবীর দাস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দপ্তরের অন্দরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশালগড় ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুবীর দাসকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় কাঠালিয়া এসডিও গৌতম ঘোষকে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বদলির নির্দেশ সামনে আসতেই বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগে পড়েন স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাঁদের আশঙ্কা, আধিকারিক পরিবর্তন হলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে। এই আশঙ্কায় পরপর তিন দিন ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন দেড় শতাধিক ঠিকাদার।

ঠিকাদারদের দাবি, জেলায় জল জীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর ধরে অর্থ বরাদ্দ না আসায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি অর্থ আসার পর বকেয়া বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

স্থানীয় ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, ভিনরাজ্যের এজেন্সিগুলির বিল পরিশোধে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং কমিশন-বাণিজ্যের স্বার্থেই সুবীর দাসকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, সুবীর দাস স্থানীয় ঠিকাদারদের বকেয়া বিল পরিশোধের পক্ষে ছিলেন বলেই তাঁকে বদলির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।

এদিকে, শুক্রবার অসুস্থতার কারণে অফিসে যাননি সুবীর দাস। জানা গিয়েছে, তিনি আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে ছিলেন। এই সুযোগে গৌতম ঘোষ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের চেয়ারে বসেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অফিসে সুবীর দাসের নামফলক ভাঙচুর করে সরিয়ে ফেলার ঘটনাও সামনে আসে।

নামফলক ভাঙচুরের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে অফিসে ছুটে যান সুবীর দাস। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান। পাশাপাশি, তাঁর বদলির নির্দেশের উপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

দায়িত্ব হস্তান্তর প্রসঙ্গে সুবীর দাস বলেন, কোনও আধিকারিক বদলি হলে নিয়ম মেনে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য আধিকারিকের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের চেয়ারে বসার বিষয়টিকে তিনি বেআইনি বলে দাবি করেন।

সুবীর দাস আরও জানান, সিপাহিজলা জেলা জল জীবন মিশন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। তাই জেলার উন্নয়নমূলক কাজের গতি বজায় রাখা এবং প্রকল্পের অধীনে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করা অত্যন্ত জরুরি। বকেয়া বিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আর গড়িমসি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর আপাতত সুবীর দাসের পদে বহাল থাকা এবং ঠিকাদারদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি ঘিরে দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment