নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর: ভারতের সভ্যতার ইতিহাস শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও জ্ঞান বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ‘বিশ্বজুড়ে ভারতের সাংস্কৃতিক সংযোগ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, নালন্দার মতো শিক্ষাকেন্দ্র এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু, পণ্ডিত ও পর্যটকদের মাধ্যমে ভারতের জ্ঞান ও সংস্কৃতি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় দর্শন, সংগীত, নৃত্য, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, খাদ্যসংস্কৃতি ও যোগব্যায়াম আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে দৃঢ় করছে। ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত এই সম্মেলন ‘বৃহত্তর ভারত সোসাইটি’র শতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯২৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা ভারতের সঙ্গে বিশ্বের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সম্মেলনের উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, ‘বৃহত্তর ভারত’ কোনও রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক দাবি নয়, বরং বিভিন্ন দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রতিফলন। তাঁর কথায়, “সংস্কৃতির কাজ বিশ্বকে বিভক্ত করা নয়, সংযুক্ত করা।” তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল জানান, প্রায় ৫১টি দেশের গবেষকদের সহযোগিতায় ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা, সেমিনার ও কর্মশালার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইজিএনসিএ-র সদস্য-সচিব ড. সচ্চিদানন্দ যোশি বলেন, মানুষের যাতায়াত ও জ্ঞান বিনিময়ের মধ্য দিয়েই বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।সম্মেলনের অঙ্গ হিসেবে ‘এশিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।







