অনলাইন ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন জনসেবার অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং বিকশিত ভারত-এর ভাবনাকে জনমানসে আরও সুদৃঢ় করতে রাজ্যের আটটি জেলায় স্থায়ীভাবে ‘সেবা জ্যোতি চক’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আজকের মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিবস উপলক্ষ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও এক মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালন করা হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। অভিযানের আওতায় মোট ১২টি কর্মসূচি দুই পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অভিযানের সূচনা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টায় উদয়পুরের মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির, আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ও বাড়িঘরে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। একই দিনে ‘সেবা দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করা হয়।
অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ‘মেরে স্বপ্নো কা ভারত চিত্র সেবা’, ‘নমো সেবা আনকহি কাহানিয়াঁ’, ‘অঙ্গন মিলন সেবা’, ‘সেবা কি কাহানি’, ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ‘সেবা মেরি যোগদান’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘সেবা কি রং, রাষ্ট্র কি সং’, ‘সেবা ফাস্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, ‘সুশাসন সেবা সংবাদ’ এবং ‘ভাদনগর-বারাণসী সেবা যাত্রা’-সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত ভারত গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে গত ৭ অক্টোবর আয়োজিত ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে শোভাযাত্রা ও র্যালির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মানুষকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এতে যুবসমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এই যাত্রার ভাবনাকে স্থায়ী রূপ দিতেই রাজ্যের আটটি জেলায় ‘সেবা জ্যোতি চক’ (স্কোয়ার) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যেখানে বিকশিত ভারতের প্রতীক হিসেবে স্থায়ীভাবে জ্যোতি স্থাপন করা হবে। সেবা জ্যোতি চকগুলির স্থাপনা গভীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক তাৎপর্য বহন করবে। নিরবচ্ছিন্নভাবে ২৫ বছর জনসেবায় নিয়োজিত থাকার ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিত এই চকগুলি স্থায়ী স্মারক হিসেবে থাকবে। এই চকগুলি স্থাপনের মাধ্যমে দরিদ্র জনগণের কল্যাণ, প্রশাসনিক স্তরে সুশাসন পৌঁছে দেওয়া এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আদর্শ ও ভাবনাকে জনমানসের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের চিহ্নিত স্থানগুলিতে স্থায়ীভাবে ‘সেবা জ্যোতি চক’ নির্মাণ করা হবে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় আগরতলার রাণী পুকুর সংলগ্ন জংশন, সোনারতরী স্টেট গেস্ট হাউস ও শহীদ ভগৎ সিং যুব আবাস সংলগ্ন এলাকায় রাজ্যস্তরের ‘সেবা জ্যোতি চক’ স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। উত্তর ত্রিপুরায় ধর্মনগরের ডিএনভি প্লে গ্রাউন্ডের ট্রাই-জংশন, ঊনকোটি জেলায় কৈলাসহরের শ্রীরামপুর ব্রিজ চৌমুহনি, ধলাই জেলায় আমবাসা টাউন হল সংলগ্ন জংশন, খোয়াই জেলায় মহাদেব টিলা সংলগ্ন জংশন, সিপাহীজলা জেলায় বিশ্রামগঞ্জ মোটরস্ট্যান্ড সংলগ্ন জংশন, গোমতী জেলায় উদয়পুরের জগন্নাথ দীঘির কোণায় জামতলা ক্রসিং এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় বিলোনীয়ার কৃষি দপ্তরের উপ-অধিকর্তার কার্যালয়ের নিকটবর্তী জংশনকে এর জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই চকগুলি শুধুমাত্র স্থায়ী পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে না, বরং স্থানীয় নাগরিকদের দৈনন্দিন অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি চকে যথাযথভাবে সজ্জিত একটি কেন্দ্রীয় আইল্যান্ড বা চত্বর থাকবে। সেখানে জনসেবামূলক মনোভাব, গভীর উপলব্ধি, নিষ্ঠা ও জনসেবার প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী একটি জ্যোতি স্থাপন করা হবে। জ্যোতির নির্মাণশৈলী পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত রাস্তা, দৃশ্যমানতা এবং নিরাপদ যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এই স্থায়ী স্মারকগুলির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিরবচ্ছিন্ন ২৫ বছরের জনসেবার ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য ও আদর্শকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্বেচ্ছাশ্রম, বৃক্ষরোপণ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নাগরিকদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও ‘সেবা জ্যোতি চক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য ও জেলা সদরগুলিতে চিহ্নিত আটটি স্থানকে ‘সেবা জ্যোতি চক’ নামে নামাঙ্কিত করার প্রস্তাবে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে জনসেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রগঠনে নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।








