হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্বোধন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজ্যে আরও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে উঠবে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬: রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী দিনে ত্রিপুরায় আরও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। বুধবার আগরতলার রেন্টার্স কলোনিতে ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও নেতাজী সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের উদ্বোধন করে তিনি একথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজ্যের বাইরে যেতে হতো। বর্তমানে রাজ্যে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এমবিবিএস, ডেন্টাল, নার্সিং এবং বিএইচএমএস-সহ বিভিন্ন চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ অনেকটাই বেড়েছে। আগামী দিনে রাজ্যে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার সুযোগও তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে চায়। সরকার যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও চিকিৎসা পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হবে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিজা গ্রুপ ত্রিপুরায় একটি অত্যাধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠলে শুধু চিকিৎসা পরিষেবার পরিধিই বাড়বে না, সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। ধলাই জেলাতেও আগামী দিনে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত পথে রাজ্যের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকার কাজ করে চলেছে বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রিপুরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্যের সর্বত্র শান্তি, সম্প্রীতি ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণেই রাজ্যে সম্প্রতি প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নবনির্মিত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য দিনটি গর্বের বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাতেও হচ্ছে। যেকোনও চিকিৎসাবিদ্যা ও চিকিৎসা পরিষেবায় দক্ষতা অর্জনের জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। তিনি বলেন, রাজ্যে চিকিৎসা পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, ত্রিপুরা মেডিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টর ডা. এইচ. পি. শর্মা এবং পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও নেতাজী সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী-সহ অতিথিরা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রবর্তক স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

Leave a Comment