মাতাবাড়িতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, দীপাবলি মেলা ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে

প্রগতি ত্রিপুরা, ০১ অক্টোবর, ২০২৬: ঐতিহ্যবাহী মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরকে ঘিরে আসন্ন দীপাবলি মেলাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি মাতাবাড়ির সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল মাতাবাড়ি ট্রাস্ট। বৃহস্পতিবার উদয়পুর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্দির ও মেলা কেন্দ্রিক একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর মাতাবাড়িতে আগামী দিনে আরও পরিবর্তন ও উন্নয়নের ইঙ্গিত দেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, মুখ্যসচিব জিতেন্দ্র কুমার সিনহা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিঙ্কু লাথেরসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।

প্রতিবছর দীপাবলি উপলক্ষে মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হয়। ফলে মেলাকে কেন্দ্র করে আগাম প্রশাসনিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে ভিড় সামলানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।

মেলা শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত কাজ এবং পরিষেবাগুলি প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বিপুল জনসমাগমের সময় যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রেখে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাতাবাড়ির দীপাবলি মেলা ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি উদয়পুর ও গোমতী জেলার ঐতিহ্য, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত। তাই এবারের মেলাকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি মন্দির ও সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ট্রাস্টের বৈঠক এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মাতাবাড়িতে আগামী দিনে আরও কিছু পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment