প্রগতি ত্রিপুরা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে পানিসাগর মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। ছোট-বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বনজ সম্পদনির্ভর বৈধ ব্যবসা ও ইন্ডাস্ট্রির মালিক এবং সাধারণ মানুষ—অনেকেরই অভিযোগ, বিভিন্ন ক্লাবের পূজা উদ্যোক্তাদের চাঁদার চাপে তাঁরা কার্যত অতিষ্ঠ। অভিযোগ উঠছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পণ্যবাহী গাড়ি রাস্তায় আটকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও পানিসাগর থানার পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন ও পুলিশের এই নীরবতার কারণেই কিছু পূজা উদ্যোক্তার দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা নাগাদ। জানা গেছে, TR-05-0460 নম্বরের একটি অল্টো গাড়িতে বনদপ্তরের বৈধ কাগজপত্রসহ আগর বোঝাই করে কদমতলা-রাজনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হোসেন কাঠালতলির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
অভিযোগ, চারুবাসা এলাকায় পৌঁছালে কালীবাড়ি সংলগ্ন একটি ক্লাবের দুর্গোৎসবের কয়েকজন উদ্যোক্তা গাড়িটিকে থামার সংকেত দেন। চাঁদা দেওয়ার আশঙ্কায় গাড়িচালক গাড়ি না থামিয়ে ধর্মনগরের দিকে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ।
এরপরই ওই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫-১৬টি বাইকে ২৫-৩০ জনের একটি দল গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ধর্মনগরের অফিসটিলা এলাকায় গাড়িটিকে আটক করা হয়। অভিযোগ, সেখান থেকে চালককে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক গাড়িটিকে ঘুরিয়ে পুনরায় চারুবাসা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানেও চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পানিসাগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি ও চালককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—বৈধ কাগজপত্র নিয়ে পণ্য পরিবহণকারী একটি গাড়িকে প্রকাশ্য রাস্তায় থামিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা এবং গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ ওঠার পরও কেন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না?
বিশেষ করে, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছেন, সেখানে পানিসাগর মহকুমায় প্রকাশ্য রাস্তায় এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয়দের কটাক্ষ, “ঢাল নেই, তলোয়ার নেই—নিধিরাম সর্দার!” চাঁদার জুলুমের অভিযোগের সামনে যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই নীরব থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশায় কোথায় যাবেন—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবের বক্তব্য জানা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।








