ধর্মনগর বিজেপি জেলা কার্যালয়ের বিজেপি বনাম বিজেপি মারামারি! উত্তপ্ত ধর্মনগর!!

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ধর্মনগর বিজেপি জেলা কার্যালয়ে বুধবার প্রকাশ্যে এল দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চরম রূপ। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই মারামারি, চেয়ার ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা এবং একাধিক ব্যক্তিকে আহত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় বিধায়কের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মুন্না পাল, মিহির কান্তি দেব ও নবারুণ নাথ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে কাঞ্চনপুর মহকুমার লালজুড়ি এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর সহধর্মিণী বর্ণালী গোস্বামীর। সেই উদ্দেশ্যে ধর্মনগর বিজেপি জেলা কার্যালয়ের সামনে তাঁদের গাড়ি থামে। অভিযোগ, বর্ণালী গোস্বামীর সঙ্গে থাকা মুন্না পাল, মিহির কান্তি দেব ও নবারুণ নাথ দলীয় কার্যালয়ে উত্তরীয় নিতে প্রবেশ করলে তাঁদের সঙ্গে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ধর্মনগর মণ্ডল সভাপতি শ্যামল নাথের নেতৃত্বে এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তাঁদের উপর হামলা চালান। তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের একটি কক্ষে ঢুকিয়ে মারধর করা হয় এবং চেয়ার ও লাঠিসোটা ব্যবহার করে আক্রমণ চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় মুন্না পাল, মিহির কান্তি দেব ও নবারুণ নাথ আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে জেলা কার্যালয়ে ছুটে আসেন বিধায়ক জহর চক্রবর্তী ও তাঁর সহধর্মিণী বর্ণালী গোস্বামী।

অভিযোগ, তাঁদের সামনেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিধায়ক ও তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করা হয়। এমনকি তাঁদের দিকে এগিয়ে এসে আক্রমণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ফের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হলে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মনগর বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধের অভিযোগ থাকলেও দলীয় জেলা কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ধর্মনগরজুড়ে উত্তেজনা ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। ঘটনাটি নিয়ে দলীয় স্তরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিকভাবে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment