অনলাইন ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির পর ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলা জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের পক্ষ থেকে বুধবার জানানো হয়, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী কয়েকটি এলাকা এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে গোষ্ঠীটি একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাদের দাবি, ভিডিওতে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর কিছু সাঁজোয়া যান তাদের নিয়ন্ত্রণে আসার দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে বিমান হামলা ও বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখা যায়।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তাদের যোদ্ধারা ভূপাতিত করেছে। তবে দাবিটির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
সারি আরও দাবি করেন, চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত সরকারের কর্মকর্তারাও হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন। তবে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার সংখ্যা বা অভিযানের বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি।
এদিকে, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সৌদি আরবের জন্য ভ্রমণ নির্দেশনায় কড়াকড়ি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারি কর্মীদের ইয়েমেন সীমান্তের নির্দিষ্ট এলাকার কাছাকাছি ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার মক্কার আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার আগে একটি হুথি ড্রোনকে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। রিয়াদের দাবি, পবিত্র নগরীর আশপাশে এ ধরনের হামলা গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। অন্যদিকে হুথিদের মুখপাত্র মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে সৌদি প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তেলের বাজারে বাড়ছে চাপ: ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইন দিয়ে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরমুখী তেল পরিবহন করা হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পাইপলাইনটির কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারের কাছাকাছি ছিল বলে বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে জ্বালানি বাজারে দামের ওঠানামার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সরবরাহ, মজুত, চাহিদা ও ভূরাজনৈতিক নানা কারণ কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সৌদি তেল পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইনের পূর্ণ কার্যক্রম কখন ফিরবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।








