অনলাইন ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে ভারত ও সিরিয়া। এ নিয়ে মঙ্গলবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে দেশটির জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী রায়েদ আল-সালেহর সঙ্গে বৈঠক করেন সিরিয়ায় নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ’অ্যাফেয়ার্স রেনু যাদব।
ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই কর্মকর্তা।
দামেস্কে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত মাসে সিরিয়ার বর্ডার অ্যান্ড কাস্টমসের জেনারেল অথরিটির প্রেসিডেন্ট কুতাইবা বাদাওয়ির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রেনু যাদব। ওই বৈঠকেও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত যোগাযোগের ভিত্তিতে ভারত ও সিরিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দামেস্ক সফর করেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের পরিচালক সুরেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ওই প্রতিনিধিদল সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধিদল সিরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুসাব আল-আলির সঙ্গেও বৈঠক করে। স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও তখন মতবিনিময় হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের যোগাযোগ, সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে ভারত ও সিরিয়ার সম্পর্কের বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্র ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো মানবিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক আলোচনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।








