প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে

প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: প্রয়াত হলেন ত্রিপুরার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সহ-সভাপতি এবং প্রাক্তন বিধায়ক তাপস দে। শনিবার সকালে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন এই প্রবীণ নেতা। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক দলের দায়িত্ব সামলানো তাপস দে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি প্রথমবার ত্রিপুরা বিধানসভায় প্রবেশ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ২০২১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি প্রথমে ত্রিপুরা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে যোগ দেন। পরবর্তীতে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের নেতৃত্বাধীন ‘তিপরা মথা’ দলে যোগ দিয়ে ‘তিপরা সিটিজেনস ফেডারেশন’-এর প্রধানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিপরা মথার প্রার্থীরূপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

শনিবার সকালে তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকপ্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তাপস দে-র প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এই জনপ্রতিনিধির মৃত্যুতে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে প্রয়াত নেতার মরদেহ প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ত্রিপুরা বিধানসভায়। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার অধ্যক্ষ রাম পদ জমাতিয়া, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সহ বিধানসভার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

প্রয়াত নেতার স্মৃতিচারণা করে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “তিনি একাধারে একজন রঙিন ও অত্যন্ত সৎ মানুষ ছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রথম বিধানসভায় প্রবেশ করা তাপস দে ছিলেন একজন অত্যন্ত জ্ঞানী ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই চলে যাওয়া সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।” বিধানসভার পর মরদহ মানিক্য কোর্টে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তিপরা মথার শীর্ষ নেতৃত্বসহ দলের কর্মীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

Leave a Comment