গায়ের জোরে বন্ধ করে দিলেন প্রায় ৩০০ মিটারেরও বেশি রাস্তার কাজ!, ক্ষোভে ফুটছে কমলাসাগর!!

প্রগতি ত্রিপুরা, ০৭ জুলাই,২০২৬: ক্ষমতার সেই অন্ধ অহংকার , যা সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়।যারা দলের ঝান্ডা ধরে নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন!
ঘটনা কমলাসাগর বিধানসভার ডুকলী ব্লকের অধীন ফুলতলী পঞ্চায়েতের গাবতলী এলাকার। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ যে এলাকার মানুষ একটা ভালো রাস্তার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে বসেছিলেন, আজ সেখানে উন্নয়নের কাজ শুরু হতেই বসানো হলো এক ‘পাওয়ারফুল’ ব্রেক! আর এই ব্রেকটা কোনো বিরোধী দল বা আইনি জট লাগায়নি, লাগিয়েছেন খোদ শাসকদলেরই এক ‘বগলের তলের’ নেতা! যার নাম প্রসেনজিৎ ভৌমিক ওরফে অনা।

রায়েরমুড়া, গাবতলী বড়চতল, ঈশানচন্দ্রনগর, ফুলতলী ভায়া সেকেরকোট—হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র লাইফলাইন এই রাস্তা। দীর্ঘ বাম আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত, এই রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টি হলেই নরককুণ্ডে পরিণত হতো। বাইক তো দূর, একটা বাইসাইকেল চালানোও ছিল দায়।
এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের লড়াই আর দাবির পর, অবশেষে বর্তমান সরকারের আমলে বরাদ্দ হয় রাস্তার কাজ। শুরু হয় ইটের সলিং। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে দেখে যখন ১০০-র বেশি পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছিল, ঠিক তখনই আসরে নামেন গাবতলীর সেই স্বঘোষিত ‘বাহুবলী’ বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ ভৌমিক ওরফে অনা! নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে, গায়ের জোরে বন্ধ করে দিলেন প্রায় ৩০০ মিটারেরও বেশি রাস্তার কাজ!

কিন্তু কেন? কার ইশারায় এই উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ করা হলো? প্রসেনজিৎ ভৌমিক নামের এই পাতি নেতার কি প্রশাসনের চেয়েও বড় হাত রয়েছে? এই ঘটনায় শুধু এলাকার সাধারণ মানুষই নন, খোদ বিজেপির স্থানীয় সৎ কর্মী ও নেতৃত্বরা পর্যন্ত লজ্জায় মাথা হেট করছেন। একজন ব্যক্তির এই চরম ঔদ্ধত্যে আজ গোটা দলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হচ্ছে। এলাকার মানুষ স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলছেন—দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে কি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়?

আজ ফুলতলী পঞ্চায়েতের গাবতলী এলাকার ঘরে ঘরে তীব্র ক্ষোভ। মানুষ জানতে চায়, এই রাজত্বে আইনের শাসন চলবে নাকি প্রসেনজিৎ ভৌমিকদের মতো লোকেদের মস্তানি?
এখন দেখার বিষয়, এলাকার মহকুমা শাসক (SDM) কিংবা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) এই বেআইনি দাপটের বিরুদ্ধে কী কড়া পদক্ষেপ নেন। নজর থাকবে কমলাসাগরের বিধায়িকা এবং বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের দিকেও—তারা কি এই ‘পাতি নেতা’-র বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে জনস্বার্থে আবার রাস্তার কাজ শুরু করাবেন, নাকি এই ক্ষমতার দাপটের সামনে প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকবে?

Leave a Comment