ছিনতাই মামলার তদন্তে নেমে রাতে প্রচুর ফেন্সিডিল উদ্ধার করলো বিশালগড় পুলিশ!

প্রগতি ত্রিপুরা, ৭ জুলাই, ২০২৬ । বিশালগড়ে শনিবার গভীর রাতে ঘটা কথিত ছিন্তাই ও অপহরণের ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তথ্য উঠে আসছে, ঘটনাটি অপহরণ নয়, বরং নিষিদ্ধ কফ সিরাপ বহনকারী একটি গাড়ি থেকে নেশা পণ্য লুটের ঘটনা ছিল এটি।

এই সংক্রান্ত নানান তথ্য এমনকি ইতিমধ্যেই এই নেশা পণ্য লুঠের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ও পেয়ে গেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অদূরের একটি বৈদ্যুতিন সামগ্রীর গোডাউনের সামনে থাকা একাধিক সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে কালো রঙের স্করপিও গাড়ি থেকে লুঠেরদের কফ সিরাপের কার্টুন নামিয়ে অন্য গাড়িতে লোড করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।

সেই সিসি ফুটেজ থেকেই এই ঘটনার সাথে যুক্তদের অনেককেই চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ, চলছে তল্লাশি।। এই ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত পাঁচ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলো ঘনীয়ামারা এলাকার কুখ্যাত দুই কুখ্যাত ও জেল খাটা দাগি দুর্বৃত্ত পায়েল হুসেন ও সাগর মিয়া।

এছাড়া ঝুটিন পোদ্মার, কবির হুসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। ঘটনায় যুক্ত আরো কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ। এই লুঠ কাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ও আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে পুলিশের কাছে ও মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গেছে এটি গাড়ি আটকে মহিলাদের অপহরণ কিংবা স্বর্ণালঙ্কার লুঠের ঘটনা নয় বরং নেশা কারবারের গুষ্ঠি ও আঞ্চলিক বিবাদ।

এমতাবস্থায় বিষয়টিকে অপহরণ ও স্বর্ণালঙ্কার লুঠের ঘটনা দাবি করে এক মহিলার থানায় এসে অভিযোগ দায়ের এবং গাড়িতে থাকা দুই মহিলার পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের রহস্য উদঘাটন ও প্রয়োজন।

এদিকে লুঠ কাণ্ড ধরা পড়া সিসি টিভি ফুটেজ সহ হার্ড ডিস্ক নিজেদের হেফাজতে নিলে ও পুলিশ তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি।

এদিকে শনিবার রাতের ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় আগরতলা থেকে বক্সনগরের উদ্দেশ্যে দুটি গাড়িতে নিষিদ্ধ কফ সিরাপ বোঝাই করে রওনা দেয়।

এরমধ্যে একটি গাড়িতে ছিল বক্স নগর আশাবাড়ির হৃদয় হুসেন। অপর মাল বোঝাই একটি গাড়িতে (কালো স্করপিও এন ) ছিল পুঠিয়ার নেশা কারবারী জুয়েল মিয়ার বোন সহ আরেক মহিলা। নেশা পণ্য বোঝাই গাড়ি আসার খবর বক্সনগরেরই আরেক নেশা পাচার চক্র এই খবর পৌঁছে দেয় বিশালগড় শহরের পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় একটি দুষ্কৃতী চক্রের কাছে।

খবর অনুযায়ী রাত প্রায় আরাইটা নাগাদ গাড়ি দুটি বিশালগড়ের মুড়াবাড়ি–কড়ইমুড়া সড়কের প্রভুরামপুর এলাকায় পৌঁছালে তাদের গতিরোধ করে আগে থেকেই সেখানে বোলেরো পিক আপ গাড়ি ও একাধিক বাইক নিয়ে উৎ পেতে থাকা লুটেরা চক্রটি। এর মধ্যে একটি গাড়ি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কালো রঙের নম্বরবিহীন স্কর্পিও গাড়ি টি যেটাআটকে ফেলা হয়। অভিযোগ, ওই গাড়িতে থাকা ২৬ কার্টন নিষিদ্ধ কফ সিরাপ লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিশালগড়কে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে নেশাজাতীয় দ্রব্য পাচার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পুলিশের নীরবতার সুযোগে এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। শনিবার রাতেও আগরতলা থেকে বক্সনগরের উদ্দেশ্যে দুটি গাড়িতে নিষিদ্ধ কফ সিরাপ পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

এ ঘটনাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন উঠছে—প্রতিবারই কেন গভীর রাতে বক্সনগরমুখী গাড়িই তথাকথিত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে?

এদিকে, সোমাইয়া নামে যে মহিলা থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও নেশা কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আসামের বাজারীচড়া ও পাঠারকান্দি এলাকায়ও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া দাবি করা হচ্ছে, ঘটনার দিন প্রথম গাড়িতে ছিলেন সোমাইয়ার ভাই, পুটিয়ার কথিত নেশা কারবারি জুয়েল এবং তাঁর সহযোগী আসাবাড়ি এলাকার হৃদয় হোসেন। জুয়েল মিয়ার এভাবে মহিলাদের ব্যবহার করে নেশা সামগ্রী পাচারের ঘটনার অভিযোগ পূর্বেও রয়েছে। অন্যদিকে দুই মহিলার দুই ধরনের বক্তব্য ঘিরে আরো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে, এলাকার বিধায়ক সুশান্ত দেব পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছেন এজাতীয় ঘটনার সংগঠিত করে যারাই বিশালগড়কে দুদিন বাদে বাদেই কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে তারা যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে যেন কড়া পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। যেভাবেই হোক বিশালগড়কে সোনামুড়া মহকুমা নেশা কারবারিদের নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার বন্ধ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Comment