প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ জুন, ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাসের লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে বহু প্রতীক্ষিত একটি চুক্তি রবিবার স্বাক্ষরিত হবে বলে মার্কিন ও পাকিস্তানি নেতারা পূর্বাভাস দিয়েছেন। কিন্তু তেহরান এর সময় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং ইরানের কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীরা এর বিরোধিতা করেছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতে কাতারের প্রতিনিধি দল রবিবার সকালে তেহরানে গেছেন বলে গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এটি “আগামীকাল নয়” তবে “আগামী কয়েক দিনের মধ্যে” ঘটতে পারে। ইরানের সংবাদ সংস্থা রবিবার জানিয়েছে, তেহরান এখনো চুক্তিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং বিশেষজ্ঞ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে এর রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোর পর্যালোচনা চলছে। ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, খসড়া চুক্তির শর্তানুযায়ী , যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত হবে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন বা অর্জন না করতে রাজি হবে।
ট্রাম্প এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন যে, একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, হরমুজ প্রণালী—যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং ইরান কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে—অবিলম্বে “সকলের জন্য উন্মুক্ত” হয়ে যাবে। আলোচনার সব পক্ষের সূত্র জানিয়েছে, প্রণালীটি পুনরায় খুলে গেলে যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ইরানের সামরিক-শিল্প ভিত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির সামরিক বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,।
গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হলেও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, কারণ মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার চেষ্টা করছে, যা যুদ্ধের আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের পথ ছিল। সূত্র মারফৎ জানা যায়, চুক্তির যে খসড়া শর্তাবলি বর্ণনা করেছে, তাতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ইরান প্রণালীটি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত শত শত কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়তে শুরু করবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। “ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে, এটা তাদের একটি শর্ত। এটি টোল ছাড়াই খুলে দেওয়া যেতে পারে। তারা তা করলেই আমরা আমাদের অবরোধ তুলে নেব,.এরপর জলপথটি মাইনমুক্ত করার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে একজন মার্কিন কর্মকর্তা।








