অনলাইন ডেস্ক, ১০ অক্টোবর, ২০২৬: ইজরায়েলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাত্রী টার্মিনালে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের এক ওমানি সহ-পাইলট। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার ইউএই-র অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে দাবি করেন, ২৯ বছর বয়সি অভিযুক্তের পরিকল্পনা ছিল বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সর্বাধিক প্রাণহানি ঘটানো।
তদন্তকারীদের দাবি, হামলার প্রস্তুতি হিসেবে অভিযুক্ত এর আগে দু’বার তেল আবিবে বিমান চালিয়ে ওই রুট ও বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তৃতীয়বার তেল আবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানের ককপিটে আচমকা ক্যাপ্টেনের উপর জরুরি কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান তিনি। আহত ক্যাপ্টেন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় ফিরতি ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত আর এক পাইলট বিমানে উপস্থিত ছিলেন। ককপিটের দরজা অস্বাভাবিকভাবে বারবার খোলা-বন্ধ হতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। অ্যাক্সেস কোড ব্যবহার করে ভিতরে ঢুকে তিনি ক্যাপ্টেনের উপর হামলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।
এরপর এক কেবিন ক্রু সদস্য ও কয়েকজন যাত্রীর সহায়তায় ওই পাইলট অভিযুক্তকে নিরস্ত করেন এবং আহত ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন। পরে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে পাইলটরা গতিপথ পরিবর্তন করেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় থেকেই অভিযুক্তের মধ্যে চরমপন্থী চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। সন্ত্রাসবাদ ও আত্মঘাতী হামলার প্রচারমূলক বই এবং অনলাইন বিষয়বস্তু তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। ৯/১১ হামলা থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, একই ধরনের হামলা চালানোর ভাবনা থেকেই বিমান চালনার পেশায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
মেলবোর্নে পড়াশোনার সময় একটি মসজিদে নিয়মিত যাতায়াত এবং ‘মাই সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়ের কথাও তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। ওই কেন্দ্রের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের যোগ ছিল বলে অভিযুক্ত দাবি করেছেন। তবে এই সংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি।
২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওমান এয়ারে কাজ করার পর ২০২৫ সালের গোড়ায় রয়্যাল এয়ার মারোক-এ যোগ দেন তিনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ শুরু করেন। নিয়োগের সময় পাইলটের লাইসেন্স, সদাচরণের শংসাপত্র এবং নিরাপত্তা যাচাই-সহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় তাঁর চরমপন্থী মনোভাব বা হামলার পরিকল্পনার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
ইউএই-র সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, আইনজীবীর উপস্থিতিতে অভিযুক্ত বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি একাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করলেও, অন্য কারও যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত ক্যাপ্টেনের মাথায় কুড়ুলজাতীয় অস্ত্রের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চোটের প্রমাণও মিলেছে বলে ফরেনসিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার রেকর্ডিং, প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ইউএই-র সরকারি কৌঁসুলির দফতর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে তদন্তাধীন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।








