প্রগতি ত্রিপুরা , ০২ অক্টোবর, ২০২৬: দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ত্রিপুরায় শুরু হল ১০ দিনব্যাপী ‘বীর বিক্রম একতা ক্যাম্প-২০২৬’। শুক্রবার নরসিংগড়স্থিত ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (টিআইটি) প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
১৩ ত্রিপুরা ব্যাটালিয়ন এনসিসির উদ্যোগে এবং এনসিসি ডিরেক্টরেট, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অধীনে আয়োজিত এই শিবিরে দেশের ১৭টি রাজ্য থেকে এনসিসি ক্যাডেটরা অংশগ্রহণ করেছেন। রাজ্যপাল অনুষ্ঠানে পৌঁছালে এনসিসি ক্যাডেটদের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে টিআইটির কনফারেন্স হলে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, জাতীয় সংহতি সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মূল কর্মসূচির সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, এনসিসি দেশের যুবসমাজকে একসূত্রে আবদ্ধ করার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্যাডেটদের ত্রিপুরায় এসে এই একতা শিবিরে অংশগ্রহণ করাকে তিনি গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে শিবির আয়োজনের জন্য ১৩ ত্রিপুরা ব্যাটালিয়ন এনসিসিকে অভিনন্দন জানান তিনি।
রাজ্যপাল আশা প্রকাশ করেন, এই শিবিরে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেটরা ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনধারা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন রাজ্যের ক্যাডেটদের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে ২১ সেক্টর আসাম রাইফেলসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নিশান্ত চান্দেলসহ সামরিক বাহিনী ও এনসিসি ডিরেক্টরেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ক্যাডেটরা নিজেদের রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ত্রিপুরার মাটিতে তুলে ধরেন। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শিবিরে বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং নানা শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যপাল ক্যাডেটদের সঙ্গে সৌজন্য চা-চক্রে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফটো সেশনেও যোগ দেন। আগামী ১০ দিন ধরে শিবিরে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষামূলক কর্মসূচি, পারস্পরিক মতবিনিময় এবং জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।






