প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মধ্যেই কমিশনের কার্যকলাপের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। সোমবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আইন ও সংবিধানের আওতায় থেকেই কমিশন কাজ করছে। এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়েও বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে নাগরিকত্ব হারানোর সঙ্গে এক করে দেখার বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মানিক সাহা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কমিশনের মধ্যে মতের অমিলকে অস্বাভাবিক বলে দেখার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এসআইআর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধন, যাচাই ও পর্যালোচনা করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়লে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তি এবং নাগরিকত্ব—দুটি পৃথক বিষয়। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের উদাহরণ তুলে ধরেন মানিক সাহা। তাঁর দাবি, দুই রাজ্যেই নির্বাচন হয়েছে এবং ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় এসেছে। এই ঘটনাগুলিকে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
বিরোধীদের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিভিন্ন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সাধারণ মানুষও এই ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করছেন না বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতার পক্ষেও সওয়াল করেন মানিক সাহা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে এবং কোথাও কোনও অসদুপায় অবলম্বন করা হয়নি।








