প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: মোটরবাইক চুরি! ছিনতাই এবং কথিত মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের নজরে থাকা এক ব্যক্তিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আটক করল কল্যাণপুর থানার পুলিশ!!ধৃতের নাম সুমন দাস। তার বাড়ি রাজধানীর আমতলী থানাধীন মহেশখলা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই এবং মাদক বিক্রির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে খোয়াই জেলার কল্যাণপুর থানাধীন মরগেচটিলা এলাকায় অবস্থান করছিল সে। গোপন সূত্রে তার অবস্থান সম্পর্কে খবর পাওয়ার পরই অভিযানে নামে কল্যাণপুর থানার পুলিশ।
অবশেষে মঙ্গলবার সকালে মরগেচটিলা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুমন দাসকে আটক করা হয়। কল্যাণপুর থানার ওসি ইন্সপেক্টর আশীষ সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক মোটরবাইক চুরির ঘটনার সঙ্গে সুমনের যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক বিক্রির অভিযোগেও তার নাম উঠে এসেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, শতাধিক মোটরবাইক চুরির সঙ্গে যুক্ত একটি সক্রিয় চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে সুমনের নাম সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলছে। চুরি হওয়া মোটরবাইক কোথায় নিয়ে যাওয়া হত, কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি চক্রের আরও সদস্যের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অতি সম্প্রতি রাজধানীর এনসিসি থানায় সুমন দাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার পর থেকেই তাকে খুঁজছিল সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। কল্যাণপুরে তার অবস্থানের খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালায় কল্যাণপুর থানার পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সুমন দাসকে এনসিসি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষ। পুলিশের তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মোটরবাইক চুরি চক্রে তার প্রকৃত ভূমিকা এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
কল্যাণপুর পুলিশের এই অভিযানে ফের একবার সামনে এল আন্তঃজেলা মোটরবাইক চুরি চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ। একজনকে আটক করা গেলেও, এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে এবং এর নেপথ্যে আর কারা রয়েছে—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে জোর দিচ্ছে পুলিশ।








