তেলের ট্যাংকারে লুকিয়ে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল পাচারের চেষ্টা, বাইজালবাড়ি পুলিশের জালে পাচারকারীসহ গাড়ি

প্রগতি ত্রিপুরা, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: রাজ্যে নেশা বিরোধী অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল খোয়াই জেলার বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ। তেলের ট্যাংকারকে গোপন আস্তানা বানিয়ে ফেনসিডিল পাচারের এক অভিনব কৌশল ভেস্তে দিল পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বিলাসবহুল মারুতি গাড়ির তেলের ট্যাংকারের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪২ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল। এই ঘটনায় পাচারে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি চালককেও আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই গভীর রাতে বিলাসবহুল মারুতি গাড়ির মাধ্যমে নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচারের খবর আসছিল বাইজালবাড়ি থানার ওসি সমরেশ চাকমার কাছে। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এলাকা জুড়ে কড়া নজরদারি শুরু করে পুলিশ প্রশাসন।

এরই মধ্যে রবিবার গোপন সূত্রে খবর আসে, একটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে নেশাসামগ্রীর একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই সক্রিয় হয়ে ওঠে বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ বাহিনী। ওসি সমরেশ চাকমা এবং সেকেন্ড ওসি তিলক জমাতিয়ার যৌথ নেতৃত্বে বেলফাং নাকা পয়েন্টে শুরু হয় বিশেষ তল্লাশি অভিযান।

অভিযান চলাকালীন TR 01 CH 0592 নম্বরের একটি সন্দেহভাজন বিলাসবহুল গাড়িকে আটক করে পুলিশ। এরপর গাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের। অতি নিখুঁত ও বিশেষ কৌশলে তেলের ট্যাংকারের ভেতর লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হয় ১৪২ বোতল ফেনসিডিল। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ফেনসিডিলসহ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে এবং চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক চালকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (NDPS Act)-এ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার অভিযুক্তকে খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বাইজালবাড়ি থানার পুলিশের এই সফল অভিযানে স্পষ্ট যে, নেশা কারবারীদের রুখতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। তবে এই পাচারচক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর নেপথ্যে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু করেছে বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ।

Leave a Comment