আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার কৌশল বদলাচ্ছে ইরান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, হামলার ধরন ও গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ওমান উপসাগর-সহ বিস্তীর্ণ জলসীমায় অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে নতুন কৌশলে হামলা চালানো হচ্ছে। মার্কিন সামরিক সূত্রের বক্তব্য, ইরানের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আইআরজিসি ছোট নৌকায় পর্যবেক্ষকদের ব্যবহার করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করছে।
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ অবরোধ বজায় রেখে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবেন না বলে জানিয়েছেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে অন্তত পাঁচটি হামলা বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনার খবর মিলেছে। ড্রোন হামলার ঘটনাও রয়েছে এর মধ্যে।
ইরানের আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি, হরমুজ প্রণালির বাইরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জাহাজ নিরাপদ থাকবে না। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য বিপদের মাত্রাকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







